
(লিখছেন বিশিষ্ট মেডিসিনের চিকিৎসক ডা: রুদ্রজিৎ পাল)
আবহাওয়া অদ্ভুত খেলা দেখাচ্ছে। গরমের মধ্যেই মাঝে মধ্যে হচ্ছে ঝড়বৃষ্টি। যার ফলে হুট করে ঠান্ডা হচ্ছে পরিবেশ। আর আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালীতেই অনেকের শরীরের হাল বিগড়ে যাচ্ছে। পিছু নিচ্ছে জ্বর, সর্দি ও কাশি।
সাধারণত, এই সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জ্বরের নেপথ্যে রয়েছে সাধারণ কিছু ভাইরাস। এই সব ক্ষেত্রে ৪-৫ দিনে জ্বর সেরে যাচ্ছে। তাই জ্বর নিয়ে বেশি চাপ নিয়ে লাভ নেই।
কিন্তু জ্বর যদি ২ থেকে ৩ দিনের বেশি থাকে, ওষুধ খেয়েও যদি না কমে যায় জ্বর, খুব বেশি দুর্বলতা যদি পিছু নেয় বা ব়্যাশ বেরয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুবই জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে ডাক্তার আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু টেস্ট দিতে পারেন। ওই সব টেস্টের মাধ্যমেই সমস্যাটা বোঝা যাবে।
কোন কোন টেস্ট দেওয়া হয়?
এখন সারা বছরই মশার বাড়বাড়ন্ত রয়েছে বাংলায়। তাই জ্বর কয়েক দিন থাকলে দেওয়া হয়ে থাকে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া এবং চিকুনগুনিয়ার মতো টেস্ট। এই সব রোগ ব্লাড টেস্টের মাধ্যমেই ধরা পড়ে যায়। এছাড়া যদি লক্ষণ দেখে মনে হয় সোয়াইন ফ্লু হয়েছে, তাহলে তার নির্দিষ্ট আরটি পিসিআর টেস্ট রয়েছে। সেটা দেওয়া হয়।
কখন ভাইরাস প্যানেল টেস্ট?
সাধারণত ভাইরাল প্যানেল টেস্ট দেওয়া হয় না। এই টেস্টের খরচ অনেক বলেই এড়িয়ে যাওয়া হয়। তবে রোগীর জ্বর যদি কিছুতেই না কমে বা শরীরে জটিল কোনও লক্ষণ দেখা যায়, তখন এই টেস্ট করার প্রয়োজন হয়। তাতেই জানা যায় কোন ভাইরাস রয়েছে রোগের নেপথ্যে। তারপর সেই মতো শুরু করা যায় চিকিৎসা।
কোন ক্ষেত্রে কী চিকিৎসা?
সাধারণ ভাইরাল অসুখের কোনও চিকিৎসা লাগে না। শুধু প্যারাসিটামল খেলেই চলে। তাতেই জ্বর সেরে যায় ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে।
ডেঙ্গি হলেও তেমন একটা চিকিৎসা নেই। শুধু রোগীর শরীরের হাল মাথায় রাখতে হয়। সেই মতো নিয়মিত প্লেটলেট কাউন্ট টেস্ট দিতে হয়। আর ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে। সেই ওষুধটা নির্দিষ্ট ডোজে খেয়ে যেতে হবে।
ও দিকে সোয়াইন ফ্লু হলে চিকিৎসক অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দিতে পারেন। তবে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ সবাইকে দেওয়া হয় না। রোগীর শরীরের হাল বিগড়ে গেলে, শ্বাসকষ্ট শুরু হলে বা রোগীর বয়স বেশি থাকলেই এই ওষুধটা দেওয়া হয়। অন্যথায় দেওয়া হয় না।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।