
বদলে যাচ্ছে আবহাওয়া। শীত কাটিয়ে ধীরে ধীরে আসছে বসন্ত। বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। আর এমন পরিস্থিতিতেই অনেকের ঠান্ডা লাগছে। পিছু নিচ্ছে সর্দি, কাশির মতো সমস্যা। তারপর কিছুদিন যাওয়ার পর কফের রং কিছু ক্ষেত্রে বদলে যাচ্ছে। হলুদ এবং সবুজ হয়ে যাচ্ছে কফ।
সাদা কফ হঠাৎ কেন হলুদ বা সবুজ হয়ে যায়? এমনটা হলে কী করণীয়? আর সেই বিষয়টা সম্পর্কে বিশদে জানালেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ রুদ্রজিৎ পাল।
কেন কফের রং হয়ে যায় সবুজ বা হলুদ?
এই প্রশ্নের উত্তরে ডাঃ পাল বলেন, এর পিছনে থাকতে পারে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন। সাধারণত ভাইরাসের আক্রমণেই ঠান্ডা লাগে। সর্দি, কাশি হয়। এছাড়া অ্যালার্জিজনিত কারণেও কারও কারও ঠান্ডা লাগে। তবে কিছু মানুষের আবার এই সব সমস্যার উপর ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে। তখন কফের রং বদলে সবুজ বা হলুদ হয়ে যায়। এটাই হল সমস্যার বিষয়।
কাদের এমনটা হতে পারে?
যে কোনও মানুষের এই ধরনের সমস্যা হতে পারে। বিশেষত, যাঁদের অ্যাজমা আছে, সিওপিডি রয়েছে, ক্রনিক কিডনির অসুখ রয়েছে বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাঁদের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে?
ডাঃ পাল বলেন, 'এক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। এই ওষুধটা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে।'
তবে এই বিষয়ে সতর্ক করে তিনি এটাও জানিয়েছেন যে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে চিকিৎসক দেখিয়ে। নিজের বুদ্ধিতে বা দোকানে বলে এই ওষুধ খেলে আদতে ক্ষতি হতে পারে। এমন সব ক্ষেত্রে ওষুধ তো কাজ করেই না, উল্টে রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। যার ফলে পরবর্তী সময় ওষুধটি কাজ করতে চায় না। এমনকী সমস্যা থেকেও মেলে না মুক্তি।
কাফ সিরাপ কাজ করে?
নিশ্চয়ই করে। তবে যে কোনও কাফ সিরাপ খেলেই হবে না। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই রোগীর সমস্যা শুনে কাফ সিরাপ বেছে নিতে পারেন বলে মনে করছেন ডাঃ পাল। তাই নিজের বুদ্ধিতে কাফ সিরাপও খাবেন না।
কী করতে পারেন?
ডাঃ পাল বলেন, 'এমনটা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি যেই সব ওষুধ খেতে বলবেন, সেগুলি খেতে হবে। তাহলেই দ্রুত সেরে ওঠা যাবে। কোনও সমস্যা হবে না।'
কতদিন লাগে সেরে উঠতে?
এটা আগেভাগে বলা সম্ভব নয়। তবে মোটামুটি ১ থেকে ২ সপ্তাহ লাগতে পারে সেরে উঠতে মনে করছেন এই চিকিৎসক। তাই ধৈর্য ধরে ওষুধ খেতে হবে। নইলে বিপদ বাড়বে বলে মনে করছেন চিকিৎসক।
ডায়েটে জোর দিন
শুধু ওষুধ নয়, সঙ্গে খান মরসুমি ফল, শাক ও সবজি। তাতেই পাবেন জরুরি ভিটামিন ও খনিজ। আপনি দ্রুত সেরে উঠতে পারবেন।
বিদ্র: এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।