
বর্তমানে প্রাইভেট সংস্থাগুলির কাছে স্বাস্থ্য বিমায় মাতৃত্ব একটি বড় খরচ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে কর্মীদের কভারেজ, প্রিমিয়াম ও অন্যান্য সুবিধায়। ‘Employee Health Matters: India Edition 2026’ শীর্ষক একটি রিপোর্ট বলছে, যত রকম হসপিটালাইজেশন ক্লেম রয়েছে, তার মধ্যে ২০ শতাংশই মাতৃত্ব কভার করছে। স্বাস্থ্য বিমার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মাতৃত্ব। সেই খরচের বোঝা বহন করতে হচ্ছে কর্পোরেট বিমাকে পলিসিকে। তার জেরে কর্মীরা যে প্রিমিয়াম দেন প্রতিবছর, তার উপর প্রভাব পড়ার চান্স রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বেড়ে যেতে পারে প্রিমিয়ামের টাকা।
গ্রুপ পলিসিতে প্রভাবের আশঙ্কা
শুধু প্রিমিয়াম বাড়ার আশঙ্কাই নয়, বিমা পলিসি আরও কঠোরও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্লেম রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে সম্ভাবনা। এছাড়াও যেমন কভারেজ লিমিট কমে যাওয়া, কো-পে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকী আপনি যদি কখনওই মাতৃত্ব বিমা পলিসি ব্যবহার না-ও করে থাকেন, তা সত্ত্বেও কোম্পানির সামগ্রিক গ্রুপ পলিসিতে তার প্রভাব পড়তেই পারে।
রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, কর্মীদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৭ জন কর্মীর অন্তত একটি লাইফস্টাইল-সম্পর্কিত সমস্যা রয়েছে, যেমন উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকা বা লিভারের সমস্যা। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সমস্যাগুলি এখন ৩৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেও বেশি দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ, আগের তুলনায় অনেক কম বয়সেই স্বাস্থ্য সমস্যা শুরু হচ্ছে। যদিও এই ঝুঁকিগুলি সঙ্গে সঙ্গে গুরুতর অসুস্থতা তৈরি করে না, কিন্তু ভবিষ্যতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়, ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিমার খরচও বেড়ে যায়।
বিমার খরচ বাড়তে পারে
বিমার খরচ বাড়ার আরেকটি বড় কারণ হল নির্ভরশীল সদস্যরা, বিশেষ করে বাবা-মা। কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমায় সাধারণত পরিবারের সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বয়স্ক সদস্যদের মধ্যে হার্ট সার্জারি, ক্যান্স্যারের চিকিৎসা, কিডনির সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদি অসুখের চিকিৎসা বেশি হয়। এই ধরনের চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি হওয়ায় মোট বিমা দাবির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে কোম্পানি এবং বিমা সংস্থার ওপর। কর্মক্ষেত্রের জীবনযাত্রাও এই সমস্যার একটি বড় কারণ। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, এই সবই আধুনিক কাজের সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে মেটাবলিক সমস্যাগুলি বাড়ছে। অনেক সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এই সমস্যা ধরা পড়লেও, কর্মীরা তা নিয়ে তেমন গুরুত্ব দেন না। ফলে ধীরে ধীরে এই ঝুঁকিগুলি বড় অসুখে পরিণত হয় এবং শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, যা বিমার খরচ আরও বাড়িয়ে দেয়।
গর্ভাবস্থার জটিলতা বা নবজাতকের বিশেষ চিকিৎসা
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, জটিল মাতৃত্ব সংক্রান্ত চিকিৎসার সংখ্যা বৃদ্ধি। যেমন সিজারিয়ান ডেলিভারি, গর্ভাবস্থার জটিলতা বা নবজাতকের বিশেষ চিকিৎসা, এই সব ক্ষেত্রে খরচ অনেক বেশি হয়। সাধারণ চিকিৎসার তুলনায় এই ধরনের কেসে এক বছরে বিমার দাবির পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যায়। বিমা সংস্থাগুলি এই ধরনের বড় খরচের কেসগুলির ওপর বিশেষ নজর রাখে এবং এর ভিত্তিতেই পরবর্তী বছরে প্রিমিয়ামের পরিমাণ নির্ধারণ করে।
সব মিলিয়ে রিপোর্টটি স্পষ্ট করে, কর্পোরেট স্বাস্থ্যবিমার খরচ শুধু অসুখের কারণে নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রা, পরিবারের সদস্যদের কভারেজ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির ওপর নির্ভর করে। দীর্ঘমেয়াদে এই বিষয়গুলিই ঠিক করে দেয় আপনার কোম্পানি কত টাকা বিমার জন্য খরচ করবে এবং তার প্রভাব পড়ে কর্মক্ষেত্রে আপনি কী ধরনের সুবিধা পাবেন তার ওপর।