
পুজো পেরতেই কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। ভোরের দিকে একটু হলেও ঠান্ডা লাগছে। আর এমন পারদপতনের সঙ্গেই বাতের ব্যথায় আক্রান্ত রোগীরা প্রমাদ গুনতে শুরু করে দিয়েছেন। কারণ তাঁরা জানেন, তাপমাত্রা কমলেই বাড়বে হাঁটু, কোমরের ব্যথা। বাতের ব্যথায় জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠবে। হাঁটাচলা করতেও হবে সমস্যা।
তবে এই নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করে লাভ নেই। বরং এখন থেকেই কিছু নিয়ম মেনে চলুন। তাহলে আর ব্যথা বেদনা খুব একটা একটা বাড়বে না। তাই আসুন সেই নিয়মগুলি জেনে নেওয়া যাক।
জয়েন্টকে গরম রাখুন
এই সমস্যার সমাধান করতে চাইলে জয়েন্টকে গরম রাখতে হবে। বিশেষত, যেই সব জয়েন্টে ব্যথা হয়, সেগুলি গরম রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে হাতে পরুন গ্লাভস। পায়ে পরুন মোজা। এছাড়া কনুই এবং হাঁটু ঢাকা জামাকাপড় পরুন। তাতেই জয়েন্ট গরম থাকবে। কমবে ব্যথা-বেদনা বাড়ার আশঙ্কা।
ঘরের ভিতরে অ্যাক্টিভ থাকুন
অনেকেই শীতকালে তেমন একটা ব্যায়াম করেন না। আর এই ভুলটা করেন বলেই তাদের ব্যথা বেদনা বাড়ে। শুরু হয়ে যায় অন্য সমস্যা। তাই এমন পরিস্থিতিতে চেষ্টা করুন বাড়িতেই ব্যায়াম করার। দিনে অন্ততপক্ষে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। এই সময়টা হালকা ব্যায়াম করলেও পাবেন উপকার।
সঠিক খাবার খান
এই সময় খাওয়া যাবে না ফাস্ট ফুড। এমনকী বাড়ির তৈরি তেল সমৃদ্ধ যে কোনও খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ, এই সব খাবার প্রদাহ বাড়াতে পারে। যার ফলে বৃদ্ধি পেতে পারে ব্যথা, বেদনা। তাই এ সব খাবার নয়। তার বদলে শাক, সবজি ও ফল বেশি পরিমাণে খান। সঙ্গে খেতে হবে মাছ, ডিম ও বাদাম। পাশাপাশি আদা, হলুদও সেবন করুন। তাতেই সুস্থ হওয়ার কাজে এগিয়ে যাবেন।
জল পান বাড়ান
বাতের ব্যথায় আক্রান্ত রোগীদের প্রতিদিন অন্তত ৩ লিটার জল খেতে হবে। তাতে জয়েন্টের নমনীয়তা ঠিক থাকবে। ফলে ব্যথা-বেদনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকবে না।
পরিমিত ঘুমান
শীতকালে তাপমাত্রা থাকে আরামদায়ক। তাই এমন সময় অবশ্যই ভালোমতো ঘুমাতে হবে। দিনে অন্তত ৭ ঘণ্টার ঘুম চাই। তাহলেই দেহে প্রদাহ কমবে। ব্যথা, বেদনার আশঙ্কা খুব একটা থাকবে না।
এছাড়া শীতে চোটাঘাত লাগলে যন্ত্রণা বেশি হবে। তাই চেষ্টা করুন এই সময় একটু সাবধানে চলার। আর কোথাও লেগে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নইলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
বিদ্র: এই প্রতিবেদটি সচেতনতার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা হয়েছে। কোনও ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।