
Parenting Tips: প্রত্যেক বাচ্চার স্বভাব, পছন্দ-অপছন্দ আলাদা। তাই তাদের বড় করে তোলার ধরনও একরকম হয় না। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় বাবা-মা সব সময় সন্তানকে নিজের মতো করে চালাতে চান। সে কী খাবেন, কী পরবেন, কোন বন্ধুদের সঙ্গে মিশবেন, ভবিষ্যতে কোন পড়া নেবেন। সব কিছুই যেন বাবা-মার নিয়ন্ত্রণেই। এই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণই অনেক সময় তৈরি করে টক্সিক প্যারেন্টিং, যা সন্তানের মানসিক বৃদ্ধির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
প্রতিটি সম্পর্কেরই একটি সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। জন্ম দিলেই সন্তানের প্রতিটি সিদ্ধান্তের মালিক হয়ে ওঠা যায় না। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে সন্তান ধীরে ধীরে জেদি হয়ে ওঠে, নিজের ইচ্ছাকে চাপা দিতে দিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে বাবা-মায়ের উপর অস্বাস্থ্যকর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্তান দূরে সরে যেতে শুরু করে, কথা লুকাতে শেখে, ভুল পথ বেছে নেওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, টক্সিক প্যারেন্টিং বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ককে তিক্ততায় ভরিয়ে দেয়। তাই কোন ব্যবহারে টক্সিক প্যাটার্ন তৈরি হচ্ছে, তা বাবা-মায়েদের দ্রুত বুঝে নেওয়া জরুরি।
অপরাধবোধ সৃষ্টি করা
টক্সিক প্যারেন্টরা সব সময় সন্তানের কাছে নিজেদের ত্যাগের গল্প শুনিয়ে অপরাধবোধ তৈরি করেন। “তোর জন্যই আমি সব করেছি” এই কথাই সন্তানকে হীনম্মন্য করে তোলে। তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত বাবা-মায়ের কাছে ভুল বলে মনে হয়।
সবসময় তুলনা করা
অন্যের ছেলে-মেয়ের সঙ্গে নিজের সন্তানের সারাক্ষণ তুলনা করা টক্সিক আচরণের অন্যতম লক্ষণ। অন্যেরা কত ভালো এ কথা বারবার বলা হলে সন্তানের আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে, নিজের ক্ষমতার উপর ভরসা হারিয়ে ফেলে।
কখনও প্রশংসা না করা
সন্তানের ছোট-বড় কোনও কাজেই প্রশংসা নেই, শুধু সমালোচনা। চিৎকার-চেঁচামিচি, অকারণে শাসন, কথায় কথায় মারধর, এসবও টক্সিক আচরণ। বাইরের লোকের সামনে সন্তানের অসম্মান করাও মারাত্মক ক্ষতি করে।
এ ধরনের পরিবেশে বাচ্চা মানসিকভাবে চাপে থাকে, আত্মসম্মানবোধ হারায়, নিজেকে মূল্যহীন ভাবতে থাকে।সন্তানের সুস্থ বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন সমর্থন, বোঝাপড়া ও সম্মান। তাই পরিবারে টক্সিক আচরণ ঢুকে পড়লে তা বদলানোই সবচেয়ে জরুরি।