
বার্ধক্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কেউ চাইলেও আটকাতে পারে না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখের ত্বক শিথিল হতে শুরু করে এবং বার্ধক্যের লক্ষণ- যেমন সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখা- দেখা দিতে শুরু করে। সৌভাগ্যবশত, সঠিক ত্বকের যত্ন যদি শুরু থেকেই নেওয়া হয়, তবে এই সমস্যাগুলো অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
অনেকেই টানটান ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে দামী প্রসাধনী ব্যবহার করেন; কিন্তু কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ও ঠিক ততটাই উপকারী হতে পারে। এমনই একটি উপায় হল ডিমের ফেস মাস্ক। যানুন, কীভাবে ডিমের মাস্ক তৈরি করতে হয় এবং তা সঠিকভাবে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়।
ডিমের ফেস মাস্ক তৈরির উপকরণ
১টি ডিমের সাদা অংশ
১ চা চামচ লেবুর রস (তৈলাক্ত ত্বকের জন্য)
১ চা চামচ মধু (শুষ্ক ত্বকের জন্য)
ডিমের ফেস মাস্ক কীভাবে তৈরি করবেন?
* প্রথমে ডিমটি ভেঙে এর সাদা অংশটুকু একটি ছোট বাটিতে আলাদা করে নিন। ডিমের কুসুমটি আপনি অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করতে পারেন অথবা ফেলে দিতে পারেন।
* আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়, তবে ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে ১ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। লেবু ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে।
* ত্বক যদি শুষ্ক হয় অথবা ত্বকে আর্দ্রতার প্রয়োজন হয়, তবে এর সাথে ১ চা চামচ মধু যোগ করুন। মধু ত্বককে আর্দ্র বা সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
* এবার একটি চামচের সাহায্যে সবকটি উপকরণ ভালভাবে মিশিয়ে নিন।
ডিমের ফেস মাস্ক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
* ফেস মাস্ক লাগানোর আগে, মুখ ভালভাবে ধুয়ে নিন যাতে মুখের মেকআপ বা ময়লা দূর হয়ে যায়। এরপর একটি তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুখ মুছে শুকিয়ে নিন।
* এবার পরিষ্কার আঙুল বা একটি ব্রাশের সাহায্যে মিশ্রণটির একটি পাতলা স্তর মুখে লাগিয়ে নিন; খেয়াল রাখবেন যেন চোখের চারপাশ এবং মুখের ভেতরের অংশে এটি না লাগে।
* মাস্কটি ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে শুকাতে দিন। মাস্কটি শুকানোর সময় আপনি মুখে কিছুটা টানটান ভাব অনুভব করতে পারেন।
* মাস্কটি পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে হালকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখ খুব জোরে ঘষবেন না।
* এরপর একটি তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুখ মুছে নিন এবং আপনার পছন্দমতো কোনও ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
সেরা ফলের জন্য সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার এই ফেস মাস্কটি ব্যবহার করুন। পুরো মুখে লাগানোর আগে, ত্বকে কোনও অ্যালার্জি বা সমস্যা হয় কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য ত্বকের ছোট একটি অংশে এটি লাগিয়ে দেখুন।