
শীতকালে ঠান্ডা হাওয়া এবং সূর্যের আলোর অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এই ঋতুতে আপনার খাদ্যাভ্যাসের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ঋতুতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এমন খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। ডিম এই খাবারগুলির মধ্যে একটি।
ডিমকে বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং এর অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শরীরকে শক্তিশালী করে। ডিম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা আমাদের শীতকালীন অসুস্থতার সাথে আরও ভালোভাবে লড়াই করতে সাহায্য করে। এই কারণেই শীতকালে ডিম খাওয়া উপকারী বলে মনে করা হয়।
ডিম প্রোটিনের একটি দুর্দান্ত উৎস। একটি মাঝারি আকারের ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। প্রোটিন শরীরকে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সাহায্য করে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং শীতকালে অসুস্থতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
ডিম স্বাস্থ্যকর চর্বি
ঠান্ডা আবহাওয়ায় এই চর্বি শরীরের জন্য অপরিহার্য। এগুলি কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে রক্ষা করে এবং শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে।
ভিটামিন ডি-এর ভালো উৎস
অনেকেরই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকে। সাধারণত সূর্যের আলো ভিটামিন ডি সরবরাহ করে, কিন্তু শীতকালে সূর্যের আলো কম দেখা যায়। ডিম এই ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। একটি ডিম আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন ডি-এর চাহিদার প্রায় ১০% পূরণ করতে পারে।
ডিমেও জিঙ্ক
পাওয়া যায়, যা ঠান্ডা, কাশি এবং ফ্লুর মতো সাধারণ শীতকালীন অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এই কারণেই অনেক ওষুধেও জিঙ্ক যোগ করা হয়।
ভিটামিন বি৬ এবং বি১২
ডিম ভিটামিন বি৬ এবং বি১২ এর একটি ভালো উৎস। এই দুটি ভিটামিনই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে এবং শরীরকে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত করে।
শীতকালে ডিম খাওয়ার সঠিক উপায়
সেদ্ধ ডিম, পোচ করা ডিম, অথবা হালকাভাবে ভাজা ডিম সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়। শাকসবজি, গোটা শস্যদানা বা ডালের সাথে এগুলো খেলে সুষম এবং পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যায়। শীতকালে স্যুপ বা পোরিজে ডিম যোগ করতে পারেন, যা শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণতা এবং পুষ্টি জোগায়।
যদিও ডিমের প্রোটিন সকলের জন্য উপকারী, কোলেস্টেরলের সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের ডিমের কুসুম সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
দ্রষ্টব্য: এই খবরটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য। আপনার খাদ্যতালিকায় কোনও পরিবর্তন আনার আগে একজন ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করতে ভুলবেন না।