
যে কোনও মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় অধ্যায় হল বিয়ে। এটি জীবনে নেওয়া সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্তও বটে। বিয়ের পর জীবন আনন্দে ভরে উঠতে পারে আবার একটা ভুল সিদ্ধান্তে জীবন তছনছও হয়ে যেতে পারে। ফলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে অত্যন্ত বিবেচনা করে তবেই এগনো উচিত।
বিয়ের জন্য একে অন্যের প্রতি ভরসা এবং বিশ্বাসের অত্যন্ত প্রয়োজন। বিয়ের আগে নিজের হবু লাইফ পার্টনারকে এমন কয়েকটি প্রশ্ন করে ফেলা উচিত যাতে আগে থেকেই সমস্তটা স্পষ্ট হয়ে যায় এবং ভবিষ্যতে পশ্চাতে না হয়। তবেই সম্পর্ক মজবুত হবে এবং বেশিদিন টিকবে।
কোন কোন প্রশ্নগুলি করবেন নিজের হবু পার্টনারকে?
অর্থনৈতিক বিষয়: অধিকাংশ সময়ই আর্থিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে অস্বস্তিবোধ করেন পার্টনাররা। বিয়ের পর আর্থিক বিষয়টিই ঝগড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বিয়ের আগে পার্টনারকে বাড়ি কেনা, বেড়ানো, অবসরের পরের প্ল্যান, ঋণ কিংবা সেভিংস নিয়ে স্পষ্ট কথা বলে নিন। বিয়ের পর যাতে কোনওমতেই এই বিষয়গুলি নিয়ে সমস্যা তৈরি না হয়।
পেরেন্টিং: সন্তান চান কি চান না, তা নিয়ে পার্টনারের সঙ্গে বিয়ের আগেই স্পষ্ট করে সমস্ত কথা বলে নিন। কবে নাগাদ সন্তানধারণ করতে চান, তা নিয়েও মহিলাদের কথা বলে নেওয়া উচিত। কীভাবে সন্তানকে মানুষ করবেন, সে সম্পর্কেও আলোচনা করে নেওয়া আবশ্যক।
অশান্তি হলে সুরাহা মিলবে কীকরে: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। অশান্তি থামানোর জন্য কার কী ভূমিকা হওয়া উচিত, তা-ও আগেভাবেগ আলোচনা করা উচিত।
পরিবার সম্পর্কিত আলোচনা: পার্টনারের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কের ইকুয়েশনটা ঠিক কেমন, তা আগেভাগে জেনে রাখা ভাল। উইকএন্ডে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা পছন্দ করেন নাকি লং ড্রাইভে যেতে আগ্রহী, তা জেনে রাখা উচিত। দু'জন পার্টনারই কর্মরত হলে এই প্রশ্ন আরও বেশি করে করা উচিত।
দায়িত্ব বন্টন: দু'জনে ওয়ার্কিং হলে কোন কোন দায়িত্ব কার কাঁধে থাকবে তা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া জরুরি। কারও রান্না করা পছন্দ, কারও আবার বাজার করা, এগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া উচিত। এতে সমস্যা এড়ানো সম্ভব। একে অন্যের পছন্দ অপছন্দটাও এভাবেই জেনে নেওয়া যায়।
কেরিয়ার: কেরিয়ার সুইচ করতে চান না ব্যবসা করতে চান, এগুলো পার্টনারকে প্রশ্ন করুন।
লাইফস্টাইল: বিয়ের পর একই ছাদের নীচে থাকতে হবে দু'জনকে। ফলে কেমন লাইফস্টাইল তা জেনে রাখা জরুরি দু'জনেরই। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই মতভেদ হতে পারে।
অবসর সময় কাটানো: অবসর সময়টা একলা থাকা পছন্দ করেন না একসঙ্গে এনজয় করা, এ প্রশ্নও করুন পার্টনারকে। একে অন্যকে বোঝার এটাই আসল সুযোগ।
জীবনের বড় সিদ্ধান্ত: জীবনে চড়াই-উতরাই থাকে। সেক্ষেত্রে চাকরি ছেড়ে দেওয়া, বয়স্ক বাবা-মাকে দেখাশওনা করার মতো ঘটনা একসঙ্গে সামাল দিতে হয়। এগুলোও আলোচনা করা উচিত।
এভাবেই কোনও বিবাহিত যুগল একসঙ্গে, এক ছাদের নীচে আনন্দে সংসার যাপন করতে পারেন। বিয়ে করার আগে তাই পার্টনারের সঙ্গে স্পষ্ট ভাবে কথা বলুন। বিয়ের পর যেন আক্ষেপ করতে না হয়।