
প্রত্যেক মেয়েদেরই এমন একটা সময় আসে, যখন তাঁদের মেনোপোজ শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব একটা বয়সের পর এসে বন্ধ হয়ে যায়, আর এটাকেই মেনোপোজ বলা হয়। মেনোপজ আসলে বায়োলজিকাল পদ্ধতি, যেটা মেয়েদের ৪৫ বছর থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে হয়ে থাকে। মেনোপজ হওয়ার অর্থ হল ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং প্রসব ক্ষমতা আর থাকে না মেয়েদের। কারণ এই সময় ডিম্বাশয় ডিম উৎপাদন করা বন্ধ করে দেয়। মেনোপজের সময় মহিলাদের শরীরে অনেক ধরনের হরমোন পরিবর্তন হতে দেখা যায়। যার কারণে মুড সুইং ও ঘুমও ব্যহত হয়।
অনিদ্রার সমস্যা
মহিলাদের মেনোপজের সময় ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয়। এই সময় শরীরে অ্যাস্ট্রোজেনের মাত্রা কম হওয়ার কারণে ঘুম আসতে না চাওয়া, পুরো ঘুম না হওয়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মেনোপজ চলাকালীন আরও অনেক কারণ রয়েছে যা ইনসোমনিয়ার সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন রাতে ঘাম হওয়া, উদ্বেগ ও মুড সুইং অন্যতম। যদিও মেনোপোজের সময় হওয়া এই অনিদ্রার সমস্যার কোনও চিকিৎসা নেই। তবে জীবনধারণ ও ডায়েটে কিছু বদল আনতে পারলেই এই অনিদ্রার সমস্যা কিছুটা হলেও কম হবে। এই সময় ফল, সবজি, শস্য ও কম ফ্যাটযুক্ত প্রোটিনে সমৃদ্ধ খাবার ডায়েটে সামিল করে নিন, এতে ভালো ঘুম আসবে।
ডায়েটে রাখুন এই খাবার
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মেনোপজের সময় মহিলারা তাঁদের ডায়েটে আদা, বাদাম, কাজু ও তিল রাখতে পারেন। এতে ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে, যা ঘুম ভালো হতে সহায়ক হয় এবং মাংসপেশিগুলোকে রিল্যাক্স করে এই সব খাবার। ডায়েটে ভিটামিন ই রাখুন, এতে রাতে ঘাম হওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন। ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার খেলে রাতে ভালো ঘুম হবে। বাদাম, নারকেল, পেস্তা ও সূর্যমুখীর বীজে ভিটামিন ই অধিক মাত্রায় রয়েছে। ওমেগা-৩ হেলদি ফ্যাটি অ্যাসিড, যেটা মুড সুইংকে ভালো রাখে আর ঘুমের সমস্যাকে মেটায়। মাছ, বাজরা, জোয়ার, রাগীতে রয়েছে ওমেগা থ্রি।
মনে রাখুন এই বিষয়
মেনোপজের সময় রাতে ভুলেও ক্যাফিন বা মদ জাতীয় কিছু পান করবেন না। এতে আপনার দেহের স্নায়ুগুলো শান্ত হবে না বরং উত্তেজিত হয়ে পড়বে এবং ঘুম ব্যহত হবে।