
হাত ও পায়ের অবাঞ্ছিত লোম থেকে মুক্তি পেতে অধিকাংশ মহিলাই ওয়াক্সিং বা শেভিং করে। তবে, ওয়াক্সিংয়ের ফলে অনেকেরই ত্বকে জ্বালাপোড়া বা চুলকানির সমস্যা দেখা দেয় এবং বারবার রেজার ব্যবহারের ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে আপনি কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতিও অবলম্বন করতে পারেন। এমন কিছু সহজ উপায়ের কথা জানাব, যা দিয়ে আপনারা খুব সহজেই হাত ও পায়ের লোম দূর করতে পারবেন।
বেসন ও হলুদের মিশ্রণ
বেসন ও হলুদের একটি পেস্ট তৈরি করতে, ২ চা চামচ বেসন, ১/২ চা চামচ হলুদ এবং সামান্য দই বা দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এই পেস্টটি আলতো করে আপনার হাত ও পায়ে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। পেস্টটি শুকিয়ে গেলে, আলতোভাবে ঘষে তুলে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারের কয়েক দিনের মধ্যেই লোম পাতলা হতে শুরু করবে এবং তা কম দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। এই পেস্টটি কেবল ত্বক পরিষ্কারই করে না, বরং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি করে।
মুসুর ডাল
মুসুর ডালের সঙ্গে দুধও ব্যবহার করতে পারেন। মুসুর ডাল সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখুন; সকালে তা বেটে নিয়ে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি আপনার হাত ও পায়ে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। পেস্টটি শুকিয়ে গেলে, আলতোভাবে ঘষে বা স্ক্রাব করে তুলে ফেলুন। নিয়মিত মুসুর ডাল ব্যবহারের ফলে লোমের বৃদ্ধি কমে আসে এবং লোম দুর্বল হয়ে পড়ে।
চিনি ও লেবু
আপনি চাইলে ঘরে বসেই এক ধরণের 'দেশি ওয়াক্স' বা মোম তৈরি করে নিতে পারেন। সমপরিমাণ চিনি ও লেবুর রস এবং সামান্য জল একটি পাত্রে নিয়ে গ্যাসে জ্বাল দিন। চিনি গলে গিয়ে মিশ্রণটি হালকা সোনালি রঙের হয়ে এলে গ্যাস বন্ধ করে দিন এবং মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন। এই পেস্টটি আপনার মুখের লোমের বৃদ্ধির দিকে বা যেদিকে লোম রয়েছে, সেদিকে লাগিয়ে নিন। এরপর এর ওপর একটি জিন্সের কাপড়ের টুকরো বা স্ট্রিপ বসিয়ে শক্ত করে চেপে ধরুন। সবশেষে, লোমের বৃদ্ধির ঠিক বিপরীত দিকে টান দিয়ে কাপড়টি তুলে ফেলুন। এর ফলে লোমগুলো খুব সহজেই উঠে আসবে।