
প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর কথা উঠলেই সবার মনে প্রথমেই ডাল, ডিম কিংবা পনিরের কথা ভেসে ওঠে। কিন্তু আপনি কি জানেন যে, ভারতের ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশৈলীতে এমন কিছু পানীয়ও রয়েছে যা খুব সহজেই আপনার দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে? কিছু পানীয় সত্যিই প্রোটিনের অভাব মেটাতে সক্ষম।
প্রোটিন মানেই যে শুধুমাত্র ভারী খাবার বা দামী সাপ্লিমেন্ট—তা নয়। আপনার রান্নাঘরেই ডাল, দুধ, বাদাম এবং বিভিন্ন বীজের তৈরি এমন অনেক দেশীয় পানীয় মজুত থাকে, যা স্বাস্থ্য ও প্রোটিনের এক অফুরন্ত ভাণ্ডার। জেনে নিন, কোন কোন পানীয় আসলে কাজের।
ছাতুর শরবত
এই তালিকার প্রথমেই রয়েছে ছাতুর শরবত। ছাতুকে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের 'শক্তির উৎস' বা 'পাওয়ার হাউজ' হিসেবে গণ্য করা হয়। ভাজা ছোলার ছাতু দিয়ে তৈরি এই শরবতটি গ্রীষ্মকালে শরীরকে শীতল রাখতেই শুধু সাহায্য করে না, বরং এটি প্রোটিন ও ফাইবারেও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। আপনি চাইলে এটি নোনতা কিংবা মিষ্টি—উভয় স্বাদেই তৈরি করে নিতে পারেন।
বাটারমিল্ক
দই থেকে তৈরি এই বাটারমিল্ক ভারতের প্রায় প্রতিটি ঘরেই অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পানীয়। এটি হজম করা অত্যন্ত সহজ এবং এতে প্রোবায়োটিকের পাশাপাশি উচ্চমানের প্রোটিনও বিদ্যমান থাকে। এর সঙ্গে সামান্য ভাজা জিরে গুঁড়ো এবং পুদিনা পাতা মিশিয়ে পান করলে, এটি শরীরকে শীতল রাখার ক্ষেত্রেও চমৎকার কাজ করে।
জলজিরা
জলজিরা নামটা শুনলেই অনেকের মনে এর চটপটে ও মশলাদার স্বাদের কথা ভেসে ওঠে। মূলত এই স্বাদের জন্যই এটি বিখ্যাত। তবে কালো ছোলার ভেজানো জল বা ছাতুর সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে, এটি প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস হয়ে ওঠে। পেট ঠাণ্ডা রাখা এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে এটি জাদুর মতো কাজ করে।
আমন্ড মিল্ক
এই তালিকায় আমন্ড মিল্ক বা কাঠবাদামের দুধও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সারারাত ভিজিয়ে রাখা কাঠবাদাম বেটে নিয়ে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে, তা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও প্রোটিন সরবরাহ করে। আপনি যদি 'ভেগান' হন, তবে দুধের পরিবর্তে সাধারণ জল দিয়েও এটি তৈরি করে নিতে পারেন। এতে বিদ্যমান ভিটামিন 'ই', আপনার ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।
লস্যি
এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার, যিনি ঘন ও ক্রিমি লস্যি খেতে পছন্দ করেন না। দই দিয়ে তৈরি লস্যি প্রোটিনের একটি দুর্দান্ত উৎস। তবে স্বাস্থ্য ও স্বাদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইলে, লস্যিতে চিনির পরিমাণ যেন খুব বেশি না হয়—সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আম বা কলার মতো বিভিন্ন ফল মিশিয়ে আপনি এর পুষ্টিগুণ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারেন।
সয়া মিল্ক
এই তালিকার একদম শেষে রয়েছে সয়া মিল্ক বা সয়া দুধ। সয়াবিন হল প্রোটিনের একটি চমৎকার উদ্ভিজ্জ উৎস। দুগ্ধজাত পণ্যে অ্যালার্জি রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি আদর্শ। সয়াবিন ভিজিয়ে আপনি সহজেই এটি ঘরে তৈরি করতে পারেন।