
ব্যস্তবহুল জীবন ও খারাপ জীবনধারা শুধুমাত্র আমাদের স্বাস্থ্যের উপরই নয়, ত্বকের উপরও প্রভাব ফেলে। ফলে সঠিক মুখের যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উজ্জ্বল এবং সুস্থ ত্বকের জন্য ফেস সিরামকে ত্বকের যত্নের রুটিনের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ এগুলি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে দাগ, নিস্তেজতা এবং অসম ত্বকের রং কমায়।
বাজারে অনেক ধরণের সেরাম পাওয়া গেলেও, যদি আপনি দামি পণ্য দেখে বিভ্রান্ত হন, তবে ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক সেরাম আপনার জন্য আরও ভাল বিকল্প হতে পারে। খুব বেশি পরিশ্রম ছাড়াই বাড়িতে তৈরি করতে পারেন সেরাম। জেনে নিন বানানোর পদ্ধতি।
অ্যালোভেরা সেরাম
ত্বককে হাইড্রেট করে এবং জ্বালা প্রশমিত করে। সেরাম তৈরি করতে, একটি তাজা অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে ভালভাবে মিশিয়ে নিন। ফেস ওয়েলের কয়েক ফোঁটা, যেমন বাদাম বা অরগান তেল যোগ করুন। প্রস্তুত সেরামটি একটি কাচের বোতলে সংরক্ষণ করুন এবং ফ্রিজে রাখুন। মুখ পরিষ্কার করার পরে, অল্প পরিমাণে লাগান। অন্যান্য স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করুন। দিনে দু'বার এটি ব্যবহার করলে ত্বক নরম থাকে এবং এটি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা দেয়।
লেবুর সেরাম
লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং কালো দাগ কমাতে সাহায্য করে। এটি তৈরি করতে, সম পরিমাণে তাজা লেবুর রস এবং গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। যদি ইচ্ছা হয়, কয়েক ফোঁটা ভিটামিন ই তেল যোগ করুন। প্রস্তুত সিরামটি একটি কালো কাচের বোতলে সংরক্ষণ করুন। ঘুমনোর আগে চোখের চারপাশের অংশ এড়িয়ে পরিষ্কার মুখে কয়েক ফোঁটা লাগান।
গ্রিন টি সেরাম
গ্রিন টি-তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ত্বককে ফ্রি র্যাডিক্যাল এবং দূষণের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এটি তৈরি করতে, গ্রিন টি ভাল ভাবে ফুটিয়ে সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা হতে দিন। ঠাণ্ডা করা গ্রিন টি-তে অ্যালোভেরা জেল বা গ্লিসারিন যোগ করুন। এই মিশ্রণটি একটি পরিষ্কার বোতলে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। সকাল এবং রাতে আপনার মুখে লাগান, শুকতে দিন এবং তারপরে আপনার ত্বকের যত্নের বাকি রুটিন শুরু করুন।
ঘরে তৈরি এই সেরামগুলি ব্যবহার করার আগে, একটি প্যাচ পরীক্ষা করুন। যদি আপনার ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করুন।