
বর্তমান দ্রুতগতির জীবনে আমরা বুঝতেই পারি না কখন সময় কেটে যায়। বয়স বেড়ে যাওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ, তুলনা, হতাশা এবং মানসিক চাপের মতো বিষয়গুলো দ্বারাও পরিবেষ্টিত হই, যার সবকটিই দ্রুত বার্ধক্যের ছাপ ফুটিয়ে তোলে। বলিরেখা লুকানো থেকে শুরু করে তারুণ্য ধরে রাখার প্রতিযোগিতা পর্যন্ত, মানুষ বার্ধক্যকে মেনে না নিয়ে তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায়। কিন্তু আপনি কি জানেন জাপানিরা কীভাবে কম বয়সে বুড়িয়ে যাওয়া আটকান?
আসলে, জাপানিরা 'শিবুই' নামে একটি প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসরণ করে। এই নীতিটি সরলতা, ভারসাম্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উপর জোর দেয়, যা তাদের বয়সকে উপেক্ষা করতে এবং উজ্জ্বল ত্বক বজায় রাখতে সাহায্য করে। শিবুই নীতি এবং এটি কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে আরও জানুন।
শিবুই নীতি কী?
শিবুই হল একটি ঐতিহ্যবাহী জাপানি জীবনদর্শন যা আড়ম্বর এবং কৃত্রিমতার চেয়ে সরলতা, ভারসাম্য এবং গভীরতার উপর জোর দেয়। এই নীতি অনুসারে, ঠিক যেমন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা বাড়ে, চিন্তাভাবনা গভীর হয় এবং জীবন সম্পর্কে একটি স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়, তেমনি যে কোনও কিছুর প্রকৃত সৌন্দর্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ পায়।
যারা বার্ধক্য নিয়ে হতাশায় ভোগেন বা যাদের মনে হয় সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে, তাদের জন্য শিবুই বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে। এই নীতি তাদের মনে করিয়ে দেয় যে বয়স কোনও প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি যাত্রা যা আনন্দের সাথে যাপন করা যায়।
বার্ধক্য সম্পর্কে মানসিকতা পরিবর্তন করা প্রয়োজন
জাপানিরা বিশ্বাস করে, আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে তারুণ্যকে সাফল্য এবং সৌন্দর্যের সমার্থক করে তোলা হয়েছে। এর ফলে মানুষ বার্ধক্যকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখে। এই মানসিকতা হতাশা, উদ্বেগ এবং আত্ম-সন্দেহের জন্ম দেয়। শিবুই এই মানসিক চাপ কমায় এবং শেখায় যে প্রতিটি বয়সেরই নিজস্ব তাৎপর্য ও সৌন্দর্য রয়েছে।
শিবুই মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে নিজের বয়সকে মেনে নেওয়াই আত্মতৃপ্তি এবং শান্তির প্রথম ধাপ। শিবুই মানুষকে অন্যদের সাথে নিজেদের তুলনা না করতে এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারসাম্য বজায় রাখতে শেখায়। এই পদ্ধতি হতাশা এবং আত্ম-অসন্তুষ্টি প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
কীভাবে শিবুই নীতি গ্রহণ করবেন?
শিবুই কোনও নির্দিষ্ট বয়সে গ্রহণ করার বিষয় নয়। এটি যে কোনও বয়সের মানুষ গ্রহণ করতে পারে। আপনি যদি ছোট কিন্তু অর্থপূর্ণ কাজ করতে পছন্দ করেন, শরীরের পরিবর্তনগুলোকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, বা নিজের প্রতি সদয় হন, তবে আপনি এটি গ্রহণ করতে পারেন। যদি আপনার এই অভ্যাসগুলো থাকে, তবে তা বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করতে পারে। শিবুই জীবনধারা অবলম্বন করার জন্য জীবনে আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে আরাম ও ভারসাম্যের উপর গুরুত্ব দিন। সর্বদা আপনার অর্জন এবং অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিন। আপনার শরীর ও মনের সীমাবদ্ধতাগুলো বুঝুন। এই দৃষ্টিভঙ্গি কেবল মানসিক স্থিতিশীলতাই প্রদান করে না, বরং জীবনকে বোঝা হয়ে ওঠা থেকেও রক্ষা করে।
শিবুই আমাদের শেখায় যে বার্ধক্য কোনও দুর্বলতা নয়, বরং জীবনের একটি স্বাভাবিক ও সুন্দর অংশ। এই মানসিকতা অবলম্বন করলে তা কেবল আপনার মানসিক স্বাস্থ্যেরই উন্নতি ঘটাবে না, বরং জীবনের প্রতিটি বাঁকে আপনাকে ইতিবাচক থাকতেও সাহায্য করবে।