
কিডনি আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রক্ত পরিশোধন থেকে শুরু করে শরীরের জল ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখা-সব ক্ষেত্রেই কিডনির ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু সমস্যার শুরুতে কিডনি রোগের তেমন স্পষ্ট লক্ষণ না থাকায় বহু ক্ষেত্রেই তা ধরা পড়ে দেরিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪০ বছর পেরনোর পর মহিলাদের মধ্যে কিডনি সংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়।
এর অন্যতম কারণ, পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে বহু মহিলা নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে ভুলে যান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. জন ভ্যালেন্টাইনের মতে, কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস অজান্তেই কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। সময় থাকতে সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে কিডনি বিকলের মতো গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
১) ঘন ঘন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন
অনেক মহিলা সামান্য ব্যথা বা জ্বর হলেই ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে ফেলেন। বিশেষ করে আইবুপ্রোফেন বা এই জাতীয় ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে কিডনির উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত এই ধরনের ওষুধ খাওয়া কিডনি বিকলের ঝুঁকি বাড়ায়।
২) পর্যাপ্ত জল না পান করা
পরিবারের সবার খেয়াল রাখলেও নিজের ক্ষেত্রে অনেক মহিলা সারাদিন ঠিকমতো জল পান করেন না। এতে শরীরে টক্সিন জমতে শুরু করে, যা কিডনিতে পাথর ও সংক্রমণের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৬–৮ গ্লাস জল পান করা অত্যন্ত জরুরি।
৩) রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া উপেক্ষা করা
রাতে বারবার প্রস্রাবের চাপ এলে অনেকেই সেটিকে স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি কিডনি সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৪) অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ
বর্তমানে উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবারের চল বেড়েছে। কিন্তু ৪০ বছরের পর অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনির উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। অনেকেই মনে করেন বেশি প্রোটিন মানেই ভালো স্বাস্থ্য, কিন্তু বাস্তবে তা কিডনির স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
৫) প্রস্রাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা
কাজের ব্যস্ততা বা ভ্রমণের সময় অনেক মহিলা প্রস্রাবের চাপ উপেক্ষা করে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখেন। এই অভ্যাস অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে কিডনিতে পৌঁছাতে পারে, যা ভবিষ্যতে গুরুতর কিডনি রোগের কারণ হয়।