
আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে দিল্লি থেকে কলকাতায় LPG-র আকাল। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, গ্যাস না পাওয়ার জেরে হোটেল-ধাবা তাদের ঝাঁপি বন্ধ করে দেওয়ার মুখে। LPG সিলিন্ডারের সরবরাহ নিয়েও মানুষের মধ্যে হয়রানির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গাতেই সিলিন্ডার পেতে দেরি হচ্ছে, আর এরই মাঝে যদি হঠাৎ করে রান্নাঘরের সিলিন্ডার শেষ হয়ে যায়, তাহলে খুবই সমস্যা হতে পারে। গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার আভাস তখনই পাই, যখন তা চলতে চলতে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যদি আগে থেকেই বুঝতে পারি যে সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস রয়েছে, তাহলে সময় থাকতেই সিলিন্ডার বুক করা যেতে পারে। এর জন্য কোনও বিশেষ মিটার বা যন্ত্রের দরকার পড়বে না। কিছু ঘরোয়া ট্রিকসেই সেটা জানা যেতে পারে।
জলের ট্রিকস
সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস রয়েছে, এটা জানার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হল জল। এরজন্য এক গ্লাস বা এক মগ জল নিয়ে নিন এবং সিলিন্ডারের ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত আস্তে আস্তে ডল ঢালুন। কিছু সেকেন্ড পর হাত দিয়ে সিলিন্ডার ওপর থেকে নীচে ছুঁয়ে দেখুন। যখন সিলিন্ডার ছোঁবেন, তখন আপনি এর একদিকে ঠান্ডা অনুভব করবেন এবং অন্য অংশ গরম। যেখানে ঠান্ডা রয়েছে, ওই পর্যন্ত গ্যাস আছে। এটা হওয়ার কারণ সিলিন্ডারের ভেতর থাকা এলপিজি গরমকে তাড়াতাড়ি শোষণ করে, তাই ওই অংশ ঠান্ডা অনুভূত হয়। যদি ঠান্ডা জায়গা অনেক নীচ পর্যন্ত চলে যায়, তাহলে বুঝে যাবেন যে গ্যাস শীঘ্রই শেষ হবে।
সিলিন্ডারের ওজন
সঠিকভাবে যদি বুঝতে চান তাহলে সিলিন্ডারের ওজন দেখেও বুঝতে পারবেন। প্রত্যেক LPG সিলিন্ডারের ওপর খালি ওজন লেখা থাকে। যদি বাড়িতে ওজন মাপার যন্ত্র থাকে, তাহলে সিলিন্ডার তার ওপর বসিয়ে তার ওজন দেখতে পারেন। সেখান থেকে মোট ওজন বাদ দিয়ে দিন। উদাহরণস্বরূপ, যদি সিলিন্ডারের ওজন ২৮.৫ কিলো আর তার ওপর খালি ওজন লেখা ১৫.৫ কিলো হয়ে থাকে, তাহলে বুঝে নিতে হবে যে ১৩ কিলো গ্যাস বেঁচে আছে।
গ্যাসের আঁচ দেখে বোঝা
সিলিন্ডারের গ্যাস কমতে শুরু করলে তার প্রভাব দেখা যায় গ্যাসের আঁচে। যদি দেখেন যে গ্যাসের আঁচ আগের চেয়ে কম হয়ে গেছে অথবা রং ফ্যাকাশে হলুদ দেখাচ্ছে, তাহলে এটি গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার আগাম ইঙ্গিত হতে পারে। কখনও কখনও, এই ধরনের পরিস্থিতিতে রান্না করতে বেশি সময় লাগতে পারে। যদি এমন হয়, তাহলে খুব তাড়াতাড়ি নতুন সিলিন্ডার বুক করতে হবে।