Advertisement

Tetrachromacy: এই রংগুলি শুধু মহিলারাই দেখতে পান, পুরুষরা দেখতে পান না কেন?

আপনি কি জানেন, পৃথিবীতে এমন কিছু মহিলা আছেন যারা প্রায় ১০ কোটি রঙ আলাদা করে দেখতে পারেন? যেখানে একজন সাধারণ মানুষ দেখতে পান গড়ে ১০ লক্ষ রঙ। এটি কোনও কল্পকাহিনি নয়, বরং এক বিরল বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য, টেট্রাক্রোমাসি।

Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 12 Feb 2026,
  • अपडेटेड 12:54 PM IST
  • আপনি কি জানেন, পৃথিবীতে এমন কিছু মহিলা আছেন যারা প্রায় ১০ কোটি রঙ আলাদা করে দেখতে পারেন?
  • যেখানে একজন সাধারণ মানুষ দেখতে পান গড়ে ১০ লক্ষ রঙ।

আপনি কি জানেন, পৃথিবীতে এমন কিছু মহিলা আছেন যারা প্রায় ১০ কোটি রঙ আলাদা করে দেখতে পারেন? যেখানে একজন সাধারণ মানুষ দেখতে পান গড়ে ১০ লক্ষ রঙ। এটি কোনও কল্পকাহিনি নয়, বরং এক বিরল বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য, টেট্রাক্রোমাসি।

সাধারণ মানুষ কত রঙ দেখতে পান?
আমাদের চোখে থাকে তিন ধরনের শঙ্কু কোষ (cone cells), যা আলোর ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য শনাক্ত করে। এগুলো হলো
লাল
সবুজ
নীল

এই তিন রঙের বিভিন্ন সংমিশ্রণ থেকেই আমরা প্রায় ১০ লক্ষ রঙ আলাদা করতে পারি। এই ক্ষমতাকে বলা হয় ট্রাইক্রোমাসি। অধিকাংশ মানুষ, পুরুষ ও নারী উভয়েই ট্রাইক্রোম্যাট।

টেট্রাক্রোমাসি কী?
খুব বিরল ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কিছু নারীর চোখে চার ধরনের শঙ্কু কোষ থাকে। অতিরিক্ত এই চতুর্থ কোষটি ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য শনাক্ত করতে পারে। ফলে তারা রঙের সূক্ষ্ম পার্থক্য অসাধারণ নিখুঁতভাবে ধরতে পারেন।

যেখানে আমরা হয়তো ১০০টি সবুজ রঙ আলাদা করতে পারি, সেখানে একজন টেট্রাক্রোম্যাট নারী ১০,০০০টি আলাদা শেড বুঝতে পারেন। এটি নতুন কোনও রঙ দেখার বিষয় নয়, বরং একই রঙের অসংখ্য সূক্ষ্ম ভিন্নতা উপলব্ধি করার ক্ষমতা।

কেন এটি প্রধানত মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়?
এর পেছনে রয়েছে জেনেটিক কারণ। লাল ও সবুজ শঙ্কু কোষের জিন থাকে X ক্রোমোজোমে।
নারীদের দুটি X ক্রোমোজোম (XX) থাকে।
পুরুষদের একটি X ও একটি Y (XY) থাকে।

যদি কোনও নারীর দুটি X ক্রোমোজোমে সামান্য ভিন্ন জিন থাকে, তাহলে চতুর্থ শঙ্কু কোষ গঠিত হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, বিশ্বে প্রায় ২-৩% নারীর টেট্রাক্রোমাসির জিনগত সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বাস্তবে খুব অল্প সংখ্যক নারী এই ক্ষমতা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারেন।

পাখিদের সঙ্গে সম্পর্ক কী?
অনেক পাখি, যেমন টিয়া বা পায়রা স্বাভাবিকভাবেই টেট্রাক্রোম্যাট। তারা অতিবেগুনী আলোও দেখতে পারে। বিবর্তনের ধারায় মানুষের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যের ছাপ রয়ে গেছে, যা মাঝে মাঝে কিছু নারীর মধ্যে প্রকাশ পায়।

Advertisement

সত্যিই কি এই ক্ষমতা কাজ করে?
হ্যাঁ, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণ মিলেছে যে কিছু নারী সত্যিই বেশি রঙ আলাদা করতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ান শিল্পী কনসেটা অ্যান্টিকো এর একটি পরিচিত উদাহরণ। তাঁর চিত্রকর্মে হাজার হাজার সূক্ষ্ম রঙের ছায়া ফুটে ওঠে।

কীভাবে বুঝবেন?
অনলাইনে কিছু রঙ-পরীক্ষা রয়েছে, তবে নির্ভুল ফল জানতে বিশেষ ল্যাব পরীক্ষার প্রয়োজন। টেট্রাক্রোমাসি প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমরা যে পৃথিবী দেখি, তার রঙের জগৎ হয়তো আরও অনেক গভীর ও বিস্তৃত।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement