
গরম কাল শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই তাপপ্রবাহের জেরে জেরবার অবস্থা প্রায় গোটা বাংলা জুড়ে। এই সময় খাবার ও পানীয়ের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরী। আমাদের শরীর ঠান্ডা করে খাবার খাওয়া উচিত। গরমে বেশি করে ফল, ফলের রস এবং শাকসবজি খাওয়া উচিত। প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হয়। আজ আমরা আপনাকে এমন পাঁচটি পাতার কথা বলছি যা গ্রীষ্মকালে আপনার পেট এবং ত্বককে ঠান্ডা রাখতে সাহয্য করবে। হ্যাঁ, আমরা পান পাতা, পুদিনা, ধনে পাতা, আঙুর পাতা এবং লেমনগ্লাসের কথা বলছি।
১. পুদিনা পাতা
গ্রীষ্মকালে খাবার ও পানীয়তে পুদিনা পাতা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা উচিত, কারণ এর শীতল প্রভাব রয়েছে। গ্রীষ্মকালে পুদিনা শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহয্য করে। পুদিনা পাতা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আপনি পুদিনার চাটনি বানিয়ে খেতে পারেন। আপনি ঘোলবা বাটারমিলে পুদিনা পাতা যোগ করতে পারেন। আপনি বিভিন্ন পানীয় এবং স্যালাডে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। পুদিনা পাতা হজমতন্ত্রের জন্য একটি মহৌষধ। এটি পেটের উত্তাপ, অ্যাসিডিটি, গ্যাস এবং বুকজ্বালা কমায়। পুদিনা পাতা নিখুঁত ত্বক বজায় রাখতেও সাহায্য করে। আপনি এই পাতাগুলো আপনার ত্বকে লাগাতে পারেন, যা ব্রণ এবং র্যাশের মতো সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহয্য করে।
২. বেল পাতা
আপনারা হয়তো জানেন যে গ্রীষ্মকালে বেলের রস পান করা উপকারী, কিন্তু আপনারা কি জানতেন যে বেল পাতাও খুব উপকারী? সকালে খালি পেটে দুই থেকে তিনটি বেল পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। বেল পাতা শরীরকে ঠান্ডা রাখে। এই পাতাগুলো হজমশক্তি বাড়াতে এবং হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা করতে কার্যকর। খালি পেটে বেল পাতা চিবানো বা এর রস পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়াও আপনারা বেল পাতা শুকিয়ে চা বানিয়ে পান করতে পারেন।
৩. ধনে পাতা
গ্রীষ্মকালে ধনে পাতা খেলে শরীরে উল্লেখযোগ্য উপকার পাওয়া যায়। আপনি ধনে পাতার চাটনি বানিয়ে খেতে পারেন। স্মৃদিতে যোগ করতে পারেন। আপনি তরকারির সঙ্গেও ধনেপাতা মেশাতে পারেন। আপনি ধনেপাতার চা-ও পান করতে পারেন। ধনেপাতা খেলে তা শুধু শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা করে তাই নয়, এটি হজমশক্তি উন্নত করতে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে, ওজন কমাতে এবং পানিশূন্যতা প্রতিরোধের জন্য একটি চমৎকার প্রাকৃতিক প্রতিকার। ধনেপাতা শরীরের তাপ, পিত্তরস এবং অস্বস্তি শান্ত করে। এটি পেটের গোলমাল এবং বদহজম থেকেও মুক্তি দেয়। ধনেপাতা শরীরকে বিষমুক্তও করে, যা ত্বকের জন্যও উপকারী।
৪. লেমনগ্রাস
লেমনগ্রাসের একটি শীতলকারী প্রভাব রয়েছে এবং গ্রীষ্মকালে এটি প্রচুর পরিমাণে খাওয়া উচিত। এটি গ্রীষ্মকালে শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে। লেমনগ্লাস পেটের জন্য খুবই উপকারী। এটি হজমশক্তি উন্নত করে এবং ডিম্বাইড্রেশন প্রতিরোধ করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য শরীরের তাপ, মানসিক চাপ এবং পেট ফাঁপা কমায়। আপনি লেমনগ্লাস জলে ফুটিয়ে চা হিসেবে পান করতে পারেন। লেমনগ্রাস চা বা ডিটক্স ওয়াটার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং পেটের সমস্যা দূর করতেও সাহয্য করে। লেমনগ্লাস চা পান করলে ত্বকে একটি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আসে এবং এটি একটি প্রশান্তিদায়ক অনুভূতি দেয়। আপনি সালাদ, কারি এবং স্যুপেও লেমনগ্লাস ব্যবহার করতে পারেন।
৫. পান
আমাদের ঐতিহ্যের একটি অংশ। অতিথিদের আপ্যায়ন করতে পান পরিবেশন করা হয়। এর জল শরীরকে শীতল রাখে। গ্রীষ্মকালে পান পাতা খেলে হজমশক্তি বাড়ে, শরীর ঠান্ডা থাকে এবং গ্যাস ও অ্যাসিডিটির মতো পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আপনি পান পাতার শেক বানিয়ে গ্রীষ্মকালে পান করতে পারেন। এটি আপনার শরীরকে সতেজ রাখবে এবং ঠান্ডা রাখবে। পান পাতা ত্বকের জন্যও উপকারী। গ্রীষ্মকালে ঘামের কারণে ত্বকের জ্বালা বা সংক্রমণ হলে পান পাতার পেস্ট লাগিয়ে তার চিকিৎসা করা যায়।