
মাছের ঝোল হোক বা ভাজা অথবা অন্য় কোনও রেসিপি, সবার আগে যেটা করা হয় তা হল মাছে নুন-হলুদ মাখিয়ে রাখা হয়। প্রায় প্রত্যেক বাড়িতেই মাছ রান্নার আগে এই নিয়মের পালন করা হয়ে থাকে। অনেকে আবার আগের দিন রাতেই মাছে নুন-হলুদ লাগিয়ে ফ্রিজে রেখে দেন। তাতে নাকি রান্নার স্বাদ আরও দ্বিগুণ বাড়ে। রান্নার আগে মাছ-মাংস ম্যারিনেট করা খুব সাধারণ হলেও এতে যে স্বাদের বদল ঘটে তাই নয়, রয়েছে অনেক উপকারও।
নুন-হলুদের ভূমিকা অপরিহার্য
আসলে রান্নায় নুন-হলুদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই দুই উপাদান ছাড়া রান্না অসম্পূর্ণ। হলুদ যে শুধু রান্নায় রং এনে দেয় তাই নয় রান্নায় স্বাদও আনে। হলুদের গুণে সুস্বাদু হয় যে কোনও রান্না। তবে হলুদের স্বাস্থ্যগুণও রয়েছে। শরীরের অনেক সমস্যা থেকে শুরু করে কাটা-পোড়া ক্ষত সারিয়ে তুলতে এই মশলার জুড়ি মেলা ভার। বাড়ির রান্নাঘরে মা কিংবা বাড়ির বড়রা যখন রান্না করেন, তখন একটু লক্ষ করলে দেখা যাবে, মাছ ছাড়াও বেগুন বা অন্য কোনও সব্জি ভাজার আগে নুনের সঙ্গে সামান্য হলুদ মাখিয়ে নিচ্ছেন। হলুদ নাকি তেল কম শোষণ করে। আগে হলুদ মাখিয়ে রাখলে কম তেলে ভেজে নেওয়া যায়।
হলুদ সতেজ রাখে খাবারকে
হলুদ যে কোনও কাঁচা খাবারকেই দীর্ঘক্ষণ সতেজ রাখতে সহায়তা করে। আগের রাতে মাছ কিনে এনেছেন তা পরের দিন রান্না করবেন বলে। কিন্তু মাছ নষ্ট হয়ে যাবে কিনা সেই চিন্তা না করে বরং মাছে হলুদ দিয়ে রাখুন। হলুদের গুণেই সতেজ থাকবে মাছ। কাঁচা কোনও খাবার সতেজ রাখতে নুনও দারুণ সাহায্য করে। নুন মাখিয়ে রাখলে যত দেরিতেই রান্না করুন না কেন, মাছ নষ্ট হবে না।
জীবাণু নষ্ট করে নুন-হলুদ
তবে মাছে হলুদ মাখানোর আরও একটি কারণ হল হলুদে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। কাঁচা মাছে কোনও জীবাণু থাকলে তা হলুদের সংসম্পর্শে এসে নষ্ট হয়ে যাবে। অপরদিকে, নুনও সংক্রমণ বিরোধী। যে কোনও ধরনের ব্যাক্টেরিয়া বা জীবাণু থেকে মাছ দূরে রাখতে নুনের ভূমিকা অনবদ্য। অনেকেই মাছ ফ্রিজে রাখেন। কৃত্রিম আবহাওয়ায় মাছে জন্ম নেওয়া কিছু জীবাণু সহজেই দূর করে নুন এবং হলুদ।
নরম ও সুস্বাদু হয় মাছ
স্বাদ ও টেক্সচারের ক্ষেত্রে নুন এবং হলুদ দিয়ে মাছ ম্যারিনেট করা হয়। এতে মাছ নরম হয় পাশাপাশি আরও সুস্বাদু করে তুলবে।