
শীতের পারদ চড়ছে না বেশি। পশ্চিমবঙ্গবাসী শীতে রীতিমতো কাবু। বিশেষত জেলার দিকে শীতের দাপট আরও বেশি। বেড়েছে রুম হিটারের চাহিদা। শীতের ঠান্ডা হাওয়া ঘরকে শীতল করে তোলে এবং এই কারণেই ঘর গরম রাখার জন্য প্রায়শই রুম হিটার ব্যবহার হয়। তবে, এর ফলে বিদ্যুতের বিল অনেক বেশি আসে এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তীব্র ঠান্ডা হাওয়ার জন্য এই মরসুমে শরীরের বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। যদিও স্বাস্থ্য ভাল রাখতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনেকে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় প্রায়শই ক্লান্তি, দুর্বলতা, সর্দি, কাশি এবং গাঁটে ব্যথার মতো সমস্যা বাড়ে। কিন্তু আপনার খাদ্যাভ্যাসে কিছু ড্রাই ফ্রুট অন্তর্ভুক্ত করলে তা কেবল শরীরকে গরমই রাখবে না,সেই সঙ্গে অনেক রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করবে।
ড্রাই ফ্রুটস পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সারাদিন শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটা বোঝা জরুরি যে ড্রাই ফ্রুটস আকারে ছোট হলেও, এগুলো সত্যিই উপকারী। প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে খেলেও, শীতকালে স্বাস্থ্যের জন্য তা দারুণ সহায়ক হতে পারে।
শীতকালে ড্রাই ফ্রুট কেন অপরিহার্য?
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর ড্রাই ফ্রুট শরীরকে গরম রাখতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে। একারণেই শীতকালে প্রতিদিন অল্প পরিমাণে ড্রাই ফ্রুট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
খেজুর
খেজুরে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এগুলো তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায় এবং শীতকালে ক্লান্তি দূর করে। মনে করা হয়, খেজুর খেলে সর্দি-কাশির মতো সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।
আমন্ড
আমন্ডও এই তালিকার একটি চমৎকার সংযোজন। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ই থাকে। প্রতিদিন সকালে ভেজানো আমন্ডখেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয় এবং ত্বক সুস্থ থাকে।
আখরোট
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ আখরোটও শীতকালে খাওয়ার জন্য খুব উপকারী। এগুলো মনকে তীক্ষ্ণ করে, হৃদয়কে সুস্থ রাখে এবং ঠান্ডায় শরীরকে উষ্ণতা দেয়।
কাজুবাদাম
কাজুবাদামে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং খনিজ পদার্থ থাকে যা শক্তি জোগায় এবং শরীরকে ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে। এগুলো মেজাজ ভাল রাখে এবং ক্লান্তি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
কিশমিশ
কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ফাইবার থাকে। এগুলো হজমে সাহায্য করে এবং রক্তাল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক। শীতকালে প্রতিদিন কয়েকটি কিশমিশ খাওয়া উপকারী।
ড্রাই ফ্রুট খাওয়ার সঠিক উপায় কী?
আপনি এগুলো কাঁচা খেতে পারেন বা দুধ, ওটমিল, দই বা স্যালাডের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। হজমশক্তি উন্নত করার জন্য, আমন্ড এবং কিশমিশ সারারাত ভিজিয়ে সকালে খাওয়া একটি ভাল বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরামর্শ: ড্রাই ফ্রুটস খাওয়া খুবই স্বাস্থ্যকর, তবে এগুলো সীমিত পরিমাণে রাখা জরুরি। অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়তে পারে। তাই, প্রতিদিন এক মুঠো ড্রাই ফ্রুটই সাধারণত যথেষ্ট। প্রয়োজনে চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই খান।