
শীতের পারদ ক্রমশ নামছে। পশ্চিমবঙ্গবাসী শীতে রীতিমতো কাবু। বেড়েছে রুম হিটারের চাহিদা। শীতের ঠান্ডা হাওয়া ঘরকে শীতল করে তোলে এবং এই কারণেই ঘর গরম রাখার জন্য প্রায়শই রুম হিটার ব্যবহার হয়। তবে, এর ফলে বিদ্যুতের বিল অনেক বেশি আসে এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ছোট বাচ্চা বা বয়স্ক মানুষ আছে এমন বাড়িতে রুম হিটার ব্যবহারের সময় আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
কিছু সহজ এবং বুদ্ধিদীপ্ত প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করে রুম হিটার ছাড়াই ঘর গরম রাখা যায়। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এটি আপনার বিদ্যুতের বিল কমায় এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ।
আরও পড়ুন: মাত্র ৫০ টাকার প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটে কীভাবে গর্ভাবস্থা শনাক্ত হয়? হবু বাবা, মায়েদের জানা জরুরি
সূর্যের আলোর সঠিক ব্যবহার
দিনের বেলা জানালা এবং দরজাগুলো পুরোপুরি খুলে দিন যাতে সরাসরি সূর্যের আলো ঘরে প্রবেশ করতে পারে। সূর্যের আলো প্রাকৃতিক হিটারের মতো কাজ করে, যা ঘরকে দীর্ঘক্ষণ গরম রাখে। সন্ধ্যায় মোটা পর্দা বা ব্লাইন্ড বন্ধ করে দিন যাতে তাপ বাইরে বেরিয়ে যেতে না পারে।
দরজা ও জানালা সিল করুন
আমরা প্রায়শই এই ছোট বিষয়গুলো উপেক্ষা করি, কিন্তু ঠান্ডা হাওয়া প্রায়ই ছোট ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে। এই হাওয়া আটকাতে ডোর স্টপার, পুরনো কাপড় বা রাবারের সিল ব্যবহার করতে পারেন। এই সহজ কৌশলটি ঘরের তাপমাত্রায় বড় পার্থক্য আনতে পারে।
মেঝেতে কার্পেট পাতুন
শীতকালে টাইলস বা মার্বেলের মেঝে অত্যন্ত ঠান্ডা হতে পারে, যার উপর পা রাখলেই পুরো শরীর কেঁপে ওঠে। তাই, শীতকালে মেঝেতে কার্পেট, শতরঞ্জি বা মোটা চাদর পাতা একটি ভাল বিকল্প। এটি পায়ে উষ্ণতা দেয় এবং পুরো ঘরকে আরও আরামদায়ক করে তোলে।
দেয়াল এবং আসবাবপত্রের সঠিক ব্যবহার
কাপড়ের ওয়াল হ্যাংগিং বা মোটা পর্দা ঠান্ডা প্রবেশ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও, কাঠের আসবাবপত্র ঘরে একটি প্রাকৃতিক উষ্ণতা বজায় রাখে। তাই, বাড়িতে যতটা সম্ভব এই ধরনের আসবাবপত্র এবং ওয়াল হ্যাংগিং ব্যবহার করা বুদ্ধিমত্তার কাজ।
সঠিক বিছানার চাদর এবং কুশন বেছে নিন
মোটা কম্বল, লেপ এবং প্রচুর কুশন ব্যবহার করা। বিশেষ করে রাতে, শরীরের তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ঘরকে দ্রুত ঠান্ডা হতে বাধা দেয়। এছাড়াও, হালকা ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, ফলে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা কমে যায়।
রান্নাঘরের তাপ ব্যবহার করুন
রান্নাঘরে রান্নার ফলে উৎপন্ন তাপ পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ রান্নাঘরের দরজা খোলা রাখলে আশেপাশের ঘরগুলোও গরম থাকে। এটি একটি সহজ এবং কার্যকর পদ্ধতি যা যে কেউ চেষ্টা করতে পারেন।