
দীর্ঘ প্রায় দু’বছরের প্রতীক্ষার অবসান। উত্তর সিকিমের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র Lachen-এর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ফের চালু হওয়ায় আশার আলো দেখছে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটন শিল্প। প্রাকৃতিক দুর্যোগে Chungthang-এর কাছে একটি সেতু ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল লাচেন। পর্যটকশূন্যতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল হোটেল, হোমস্টে, গাড়িচালক থেকে ছোট ব্যবসায়ীরা।
রবিবার নতুন স্টিল সেতুর উদ্বোধন ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী Prem Singh Tamang বলেন, “এটি শুধু একটি সেতু নয়, উত্তর সিকিমের উন্নয়নের নতুন অধ্যায়।” লাচেন-মংগন এলাকার বিধায়ক ও মন্ত্রী Sandup Lepcha জানান, আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই সেতু ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও কার্যকর হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।
উত্তর সিকিমে প্রতি বছর শীতের শেষে ও বসন্তে পর্যটকদের ঢল নামে। তুষারপাত দেখতে ও উচ্চ হিমালয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন লাচেন ও Lachung-এ। কিন্তু ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর প্রশাসন নিরাপত্তার কারণে লাচেনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে পর্যটনের মানচিত্রে বড় ধাক্কা খায় এলাকা।
গত দু’বছরে লাচুংয়ে কিছুটা পর্যটক ভিড় থাকলেও সামগ্রিকভাবে উত্তর সিকিমের ব্যবসা কমে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ছিল, দ্রুত সেতু নির্মাণ শেষ করে যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হোক। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে। তবে কবে থেকে পর্যটকদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে লাচেন খুলে দেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পর্যটন দফতরের এক আধিকারিক জানান, সেতু চালু হলেও কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার অংশ মেরামতির কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলি দ্রুত শেষ করা হবে। সমস্ত নিরাপত্তা পর্যালোচনার পরেই পর্যটকদের ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যালের মতে, “যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হওয়ায় আগামী মরশুমে উত্তর সিকিমে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।” তাঁর দাবি, সড়ক ও সেতু অবকাঠামো উন্নত হওয়ায় ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন আরও প্রস্তুত থাকবে।
উল্লেখ্য, উত্তর সিকিমের উচ্চভূমি অঞ্চল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত হলেও বর্ষা ও হিমবাহঘটিত দুর্যোগে প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতীতে তিস্তা অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ধসের ঘটনাও ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আরও শক্তিশালী সেতু নির্মাণে জোর দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। এখন নজর, কবে থেকে আবার পর্যটকদের কোলাহলে মুখর হবে লাচেন।