
ডুয়ার্সের জঙ্গলে বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে পর্যটকদের সংঘাতের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু শুক্রবার লাটাগুড়িতে পর্যটক বোঝাই একটি জিপসির ওপর দাঁতাল হাতির হামলা সেই উদ্বেগকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বরাতজোরে পর্যটকরা প্রাণে বাঁচলেও, এই ঘটনার পর আর ঝুঁকি নিতে নারাজ বন দফতর।
পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং বন্যপ্রাণীদের বিচরণ অবাধ রাখতে এবার একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করল দফতর। শনিবার জিপসি চালক ও গাইডদের নিয়ে জরুরি বৈঠক সেরে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিয়ম ভাঙলে এবার থেকে কড়া আইনি ব্যবস্থা ও মোটা টাকা জরিমানা গুনতে হবে।
শুক্রবারের ওই অপ্রীতিকর ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে খোদ পর্যটকদের বিরুদ্ধেই। অভিযোগ, হাতিটিকে সামনে পেয়ে অতি-উত্সাহে কিছু পর্যটক সেটিকে উত্ত্যক্ত করেছিলেন, যার জেরে মেজাজ হারিয়ে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে দাঁতালটি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই বন দফতরের নতুন নিয়মে জানানো হয়েছে, সাফারি চলাকালীন জিপসি থেকে কোনওভাবেই নীচে নামা যাবে না। বন্যপ্রাণী দেখার সময় জিপসি চালককে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এছাড়া জাতীয় সড়কে যেখানে হাতির করিডর রয়েছে, সেখানে হাতির যাতায়াতের পথে বাধা সৃষ্টি করলে বা ছবি তোলার চক্করে উত্ত্যক্ত করলে সরাসরি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাটাগুড়ির রেঞ্জার সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, জঙ্গল সাফারির সঙ্গে যুক্ত চালক ও গাইডদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। জাতীয় সড়কে দিনভর নজরদারির জন্য একটি বিশেষ ভ্যানও মোতায়েন করা হয়েছে। বন দপ্তরের এই কঠোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে লাটাগুড়ি ও মূর্তি জিপসি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। বন দপ্তরের মতে, জঙ্গল সাফারি মানে কেবল রোমাঞ্চ নয়, বন্যপ্রাণীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখাও বাধ্যতামূলক। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি নেওয়া হবে বলেই খবর।