
ডুয়ার্স বললেই জলদাপাড়া, গরুমারা বা লাটাগুড়ির নাম ঘোরাফেরা করে। কিন্তু সেই চেনা তালিকার বাইরে, ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছে ধীরে ধীরে পর্যটকদের নজর কাড়ছে এক নতুন অফবিট গ্রাম, তোদে-তাংতা। পাহাড়, চা বাগান, এলাচের সবুজ আর ঝোরার কলতান। সব মিলিয়ে কোলাহলহীন এক নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা।
এই গ্রাম চারপাশে ঘেরা ঘন জঙ্গল, পাহাড়ি ঝোরা ও বিস্তৃত চা-এলাচ বাগানে। সকালে ঘুম ভাঙে পাখির ডাকে, বিকেলে পাহাড় ঢাকে মেঘ। পরিষ্কার দিনে হোমস্টে থেকেই দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার বিস্তৃত রূপ। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এ যেন স্বপ্নের ঠিকানা।
কেন আলাদা তোদে-তাংতা?
ডুয়ার্সের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলির ভিড় থেকে অনেকটাই দূরে এই গ্রাম। তাই এখানে নেই হুড়োহুড়ি, নেই পর্যটনের কোলাহল। বরং আছে নিরিবিলি পরিবেশে ট্রেকিং, পাহাড়ি পথে হাঁটা, পাখি দেখা আর প্রকৃতির সঙ্গে নিঃশব্দে সময় কাটানোর সুযোগ।
পাহাড়, নদী আর ট্রেকিং
গ্রামের আশপাশের পাহাড়ি পথে হালকা ট্রেকিং করা যায়। কাছেই রয়েছে তিস্তা নদী, নদীর ধারে বসে সময় কাটানো বা বিখ্যাত করোনেশন ব্রিজ দেখা পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ। বর্ষায় ঝোরাগুলির রূপ আরও মনকাড়া হয়ে ওঠে।
থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা
তোদে-তাংতাতে রয়েছে কয়েকটি স্থানীয় হোমস্টে ও ছোট রিসর্ট। সাধারণত প্রতিদিন জনপ্রতি ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে থাকা ও খাবার মিলছে। আতিথেয়তায় খাঁটি পাহাড়ি গ্রাম্য উষ্ণতা।
কারা যাবেন?
যারা ভিড় এড়িয়ে শান্ত ছুটি চান, চা বাগান, এলাচ বাগান আর পাহাড়ি ঝোরা দেখতে ভালোবাসেন, ভারত-ভুটান সীমান্তের কাছে গ্রামজীবনের স্বাদ নিতে চান, সকালের আলো, কুয়াশা আর পাখির ডাক উপভোগ করতে চান, সব মিলিয়ে, ডুয়ার্সের চেনা গণ্ডির বাইরে প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যেতে চাইলে ‘তোদে-তাংতা’ হতে পারে আপনার পরবর্তী অফবিট গন্তব্য।