
বিমানযাত্রার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি বিমান সংস্থাকে যাত্রী নিরাপত্তার বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া আছে। এই কারণেই ব্যুরো অফ সিভিল এভিয়েশন (BCAS) এবং বিভিন্ন বিমান সংস্থা, বিমানে নির্দিষ্ট কিছু জিনিস বহন করার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে থাকে। অনেক সময় যাত্রীরা অসাবধানতাবশত এই ধরনের জিনিসপত্র তাদের হ্যান্ড ব্যাগ বা চেক-ইন লাগেজে রেখে দেন, যার ফলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তাদের নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
বিমানে এসব জিনিস বহন করবেন না
এমন কিছু জিনিস আছে, যা বিমানে বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে তথ্যের অভাবে যাত্রীরা প্রায়শই এই জিনিস ব্যাগে রেখে দেয়।
বিমানে দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ
দেশলাই, লাইটার, জ্বালানি, পেইন্ট থিনার এবং লাইটার ফ্লুইড বহন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কারণ এই জিনিসগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং অধিক উচ্চতায় বায়ুচাপের পরিবর্তনের ফলে এগুলোর মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ড ঘটার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এমনকী একটি ছোট দেশলাইয়ের বাক্স বা লাইটারও বিমান চলাকালীন সময়ে বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই কারণেই হ্যান্ড ব্যাগ কিংবা চেক-ইন লাগেজে এই জিনিসগুলো রাখার অনুমতি দেওয়া হয় না। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশির সময় যদি এই ধরনের কোনও জিনিস পাওয়া যায়, তবে আপনার লাগেজ বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে এবং আপনাকে জরিমানাও দিতে হতে পারে।
দেশলাই ও লাইটার: নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী, দেশলাই কিংবা যে কোনও ধরণের লাইটার (তা বৈদ্যুতিক হোক বা গ্যাসের) বিমানের ভেতরে বহন করার অনুমতি নেই।
রাসায়নিক ও থিনার: পেইন্ট থিনার, তারপিন তেল কিংবা অন্যান্য দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের আগুন ধরে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে; তাই এগুলো বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
লাইটার ফ্লুইড ও জ্বালানি: লাইটার ফ্লুইড কিংবা যে কোনও ধরণের তরল জ্বালানি বিস্ফোরক প্রকৃতির হয়ে থাকে এবং ভ্রমণের সময় এগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
স্প্রে ও সুগন্ধি: ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ছোট আকারের অ্যারোসল স্প্রে বহনের অনুমতি থাকলেও, অত্যন্ত দাহ্য প্রকৃতির শিল্পজাত স্প্রে বহন করা নিষিদ্ধ।
নিয়ম লঙ্ঘন: নিরাপত্তা তল্লাশির সময় যদি আপনার কাছে এই নিষিদ্ধ জিনিসগুলো পাওয়া যায়, তবে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়। এছাড়া গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে।