
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে গ্রহের চলাচল কেবল একটি জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয় না। বরং এটি একজন ব্যক্তির জীবন এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির উপরও প্রভাব ফেলে। যখন গ্রহগুলি তাদের গোচরের সময় একত্রিত হয়, তখন বিভিন্ন যোগ তৈরি হয়। এই যোগগুলির মধ্যে একটি ফেব্রুয়ারির শেষে তৈরি হতে চলেছে। যা জ্যোতিষশাস্ত্রে অঙ্গারক যোগ নামে পরিচিত।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মঙ্গল কুম্ভ রাশিতে প্রবেশ করবে। যেখানে রাহু ইতিমধ্যেই উপস্থিত। মঙ্গল এবং রাহুর এই সংযোগকে একটি অশুভ সংযোগ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষীদের মতে, এই সংযোগের প্রভাব কিছু রাশির জাতকদের আর্থিক ক্ষতি, মানসিক চাপ এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যার কারণ হতে পারে।
এই সময়ে কোন কোন রাশির জাতকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?
সিংহ: এই সংযোগটি সিংহ রাশির জাতকদের জন্যও অনুকূল বলে বিবেচিত হয় না। এই সংযোগটি রাশিচক্রের অষ্টম ঘরে তৈরি হবে। যা হঠাৎ সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এই সময়ে স্বাস্থ্যের প্রতি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকে হৃদরোগ বা যৌনরোগ রয়েছে। আঘাত বা ছোটখাটো দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই সময়ে নতুন উদ্যোগ শুরু করা এড়িয়ে চলুন। বিবাহিত জীবনে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে তাই কথোপকথনে সংযত থাকতে হবে।
কন্যা: কন্যা রাশির জাতকদের জন্য রাহু এবং মঙ্গলের সংযোগ স্বাস্থ্য এবং বিবাদের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই সংযোগটি গোচর কুণ্ডলীর ষষ্ঠ ঘরে তৈরি হচ্ছে যা অসুস্থতা, চাপ এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যার দিকে পরিচালিত করতে পারে। আদালত বা আইনি বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। গোপন শত্রুরা ক্ষতি করার চেষ্টা করতে পারে। ফলে এই সময়ে রক্ত সম্পর্কিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকে অবহেলা করলে চলবে না।
মীন: মীন রাশির জন্য এই সময়টি কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। রাশিচক্র দেশে দ্বাদশ ঘরে অঙ্গারক যোগ তৈরি হচ্ছে। যার ফলে হঠাৎ করে ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। আর্থিক বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন না করলে ক্ষতি হতে পারে। অভিযোগ, বিরোধ বা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন। পারিবারিক বিষয়ে, বিশেষ করে ভাইবোনদের সঙ্গে মতবিরোধ বাড়তে পারে। কর্মক্ষেত্রে যাঁরা চাপ বা অস্বস্তি বোধ করতে পারেন, তাই যে কোনও কাজে অসাবধানতা এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।