
২০২৬-ই কি সেই বছর? বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী পড়ে অনেকেই সেই প্রশ্নই করছেন। বুলগেরিয়ার এই ভবিষ্যদ্বক্তার এর আগে বহু ভবিষ্যদ্বাণী মিলিয়ে দিয়েছেন। তবে তাঁর পরবর্তী ভবিষ্যদ্বাণীগুলি সত্যিই বেশ উদ্বেগজক। কেন? কারণ ২০২৬ সাল নিয়ে তাঁর বেশ কিছু ভবিষ্যদ্বাণী সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। তাতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে শুরু করে প্রযুক্তির মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া(কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা?); ২০২৬ সাল নিয়ে তাঁর নামে যে ভবিষ্যদ্বাণীগুলি ছড়িয়েছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো।
শৈশব থেকেই দৃষ্টিহীন ছিলেন বাবা ভাঙ্গা। কথিত, তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীর তালিকায় ৯/১১ হামলা, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন, এমনকি আমেরিকার প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার উত্থানের মতো ঘটনার পূর্বাভাস ছিল। ফলে ২০২৬ নিয়ে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী সহজে উড়িয়ে দিতে পারছেন না অনেকেই।
সবচেয়ে বেশি ভাইরাল তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা। বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচারিত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, বিশ্বের পূর্ব দিকের কোনও অঞ্চলে শুরু হতে পারে ভয়াবহ ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত। সেই যুদ্ধের আঁচ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়বে পশ্চিমী দেশগুলিতেও। শুধু প্রাণহানি নয়, এই সংঘাতে বিশ্ব শক্তির ভারসাম্যই বদলে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত। যদিও একই সঙ্গে বলা হয়েছে, রাশিয়ার কোনও প্রভাবশালী নেতা শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। কিন্তু তার আগে বিশ্ব যে এক অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে যাবে, সে ইঙ্গিত স্পষ্ট।
যুদ্ধের পাশাপাশি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কথাও উঠে এসেছে এই ভবিষ্যদ্বাণীতে। ২০২৬ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে বলে দাবি। কোথাও ভয়াবহ বন্যা, কোথাও দীর্ঘ খরা, আবার কোথাও শক্তিশালী ভূমিকম্প; প্রকৃতির রোষে বিপর্যস্ত হতে পারে একাধিক দেশ। পরিবেশ সংকট যে আরও গভীর হবে, তারও ইঙ্গিত রয়েছে।
আর এক আশঙ্কার জায়গা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, এআই-এর ক্ষমতা এমন স্তরে পৌঁছতে পারে, যেখানে তা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করবে। শিল্প, অর্থনীতি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবন; সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া মানুষের পক্ষে কঠিন হয়ে উঠবে বলেই দাবি।
ভবিষ্যদ্বাণীতে এশিয়ার উত্থানের কথাও রয়েছে। বিশেষ করে চিনের মতো কোনও দেশ ২০২৬ সালে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সেই প্রভাব বাড়লেও, একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে সংঘাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
রাশিয়াকে নিয়েও রয়েছে আলাদা ইঙ্গিত। বলা হয়েছে, সে দেশে কোনও নতুন নেতার উত্থান ঘটতে পারে, যাঁর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর ছাপ ফেলবে। যুদ্ধ ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এই নেতা বিশ্বমঞ্চে পরিচিত হয়ে উঠতে পারেন।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে; এই সব ভবিষ্যদ্বাণীর বাস্তব ভিত্তি কতটা? বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচারিত বহু কথার কোনও লিখিত বা প্রামাণ্য নথি নেই বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। তবু ইতিহাস বলছে, অনিশ্চিত সময় এলেই মানুষ ভবিষ্যতের ইঙ্গিত খোঁজে। ২০২৬ সাল কি সত্যিই বিশ্বকে কোনও বড় বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে, নাকি এই সবই ভয় আর কল্পনার মিশেল; তার উত্তর দেবে সময়ই। কিন্তু আপাতত বাবা ভেঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে আতঙ্ক ও কৌতূহল, দু’টোই সমান তালে বাড়ছে।