
মার্কিন ডলারের ব্যবহার নিয়ে ফের তোলপাড় বিশ্ব অর্থনীতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অন্য মুদ্রার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে; এমনই মন্তব্য করল রাশিয়ার ক্রেমলিন। একই সঙ্গে রাশিয়া জানিয়েছে, তারা নিজেরা ডলার ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়নি। বরং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলেই তারা বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলার বরাবরই প্রভাবশালী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশই এখনও ডলারে সম্পন্ন হয়। তেল ও জ্বালানি কেনাবেচা থেকে শুরু করে বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার; প্রায় সব ক্ষেত্রেই ডলার একটি প্রধান মুদ্রা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রেটন উডস ব্যবস্থার মাধ্যমে ডলার বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রে উঠে আসে। আজও বহু দেশের রিজ়ার্ভের বড় অংশ ডলারে রাখা হয়, ফলে আন্তর্জাতিক লেনদেনে তার আধিপত্য বজায় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বিকল্প মুদ্রার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
ক্রেমলিনের বক্তব্য, ইউক্রেন সংঘাতের জেরে রাশিয়ার উপর যে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তার ফলে ডলার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক লেনদেনে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর দিকেই নজর দিয়েছে মস্কো। ক্রেমলিনের দাবি, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডলারের উপর থাকা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে, তা হলে ভবিষ্যতে ডলারকে অন্য মুদ্রার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতে পারে।
রাশিয়ার তরফে আরও জানানো হয়েছে, ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের আলোচনা বাস্তব রূপ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে ক্রেমলিন। মার্কিন এবং রুশ; উভয় দেশের কিছু সংস্থাই পারস্পরিক বাণিজ্যিক সহযোগিতায় আগ্রহ দেখিয়েছে। এমনকি কয়েকটি মার্কিন সংস্থা রুশ বাজারে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ব্লুমবার্গে প্রকাশিত একটি সম্ভাব্য মার্কিন-রাশিয়া অর্থনৈতিক চুক্তি সংক্রান্ত নথি প্রসঙ্গে ক্রেমলিনের মন্তব্য, মস্কো বরাবরই সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে দ্রুঝবা পাইপলাইনে তেল সরবরাহে বিঘ্ন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্রেমলিন জানায়, এ বিষয়ে রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
ক্রেমলিন আরও জানিয়েছে, ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে শান্তি আলোচনার নতুন পর্ব শুরু হতে পারে। সেই সঙ্গে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলারের আধিপত্য এখনও অটুট হলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক জোটের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প মুদ্রা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বিশ্ব বাণিজ্যের পরিকাঠামো, আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা এবং আর্থিক বাজারে ডলারের গভীর প্রভাবের কারণে তার প্রভাব দ্রুত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।