
জ্যোতিষশাস্ত্রে দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিশ্বাস চলে আসছে, কিছু মানুষ জন্মগত ভাবেই বেশি ভাগ্যবান। তাঁদের মেধা যেমন তীক্ষ্ণ, তেমনই সৌভাগ্যের হাতও থাকে মাথার উপর। ফল হিসেবে সামান্য পরিশ্রমেই বড় সাফল্য এসে পড়ে জীবনে। অন্যরা যেখানে কঠোর পরিশ্রম করেন, সেখানে এঁরা ভাগ্য ও মেধার জোরে সামনে এগিয়ে যান অনায়াসে।
সংখ্যাতত্ত্ব, যা জ্যোতিষশাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সেখানে মূলাঙ্ক ১-কে সূর্যের সংখ্যা হিসেবে ধরা হয়। তাই এই তারিখে জন্মানো মানুষের জীবনে সূর্যের জ্যোতি নেমে আসে বলে মনে করা হয়। স্বভাবতই এঁরা নেতৃত্ব দিতে ভালোবাসেন এবং জীবনে দারুণ সাফল্য অর্জন করেন।
সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী যাঁদের জন্ম ১, ১০, ১৯ অথবা ২৮ তারিখে, তাঁরা মূলাঙ্ক ১-এর অন্তর্ভুক্ত। এই জাতকদের অধিপতি গ্রহ সূর্য হওয়ায় তাঁদের ব্যক্তিত্বে থাকে তেজ, আত্মবিশ্বাস এবং কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা। চলতি বছরও সূর্যের প্রভাব বেশি থাকায় এই জাতকদের জন্য সময় আরও অনুকূল বলে মনে করছেন জ্যোতিষীরা।
মূলাঙ্ক ১-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো জন্মগত নেতৃত্বদানের ক্ষমতা। আত্মবিশ্বাস তাঁদের বিশেষ সম্পদ। তাঁদের উপস্থিতি বা কথা অনেককে অনুপ্রাণিত করে। স্বভাবতই মানুষ সহজেই এঁদের প্রভাবের মধ্যে চলে আসে।
এই মূলাঙ্কের জাতকেরা লক্ষ্যে অটল থাকার মানসিকতা নিয়ে চলেন। একবার কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলে তাঁরা থেমে থাকেন না। তাই জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য প্রায় নিশ্চিত। মৌলিক চিন্তাধারা, উদ্যম ও পরিশ্রম একত্রে এঁদের আরও এগিয়ে নিয়ে যায়।
মূলাঙ্ক ১-এর মানুষরা আশাবাদী ও ইতিবাচক মনোভাবাপন্ন। নিজে যেমন সামনে এগিয়ে যান, তেমনই অন্যদেরও পথ দেখান। কাজের মাধ্যমে সমাজে সম্মান অর্জন করাই এঁদের স্বভাব। পরিবার, পেশা ও সমাজ—সব জায়গাতেই নেতৃত্বের গুণে তাঁরা আলাদা করে নজর কাড়েন।
তবে সাফল্যের অতিরিক্ত ঝলসে মাঝে মাঝে তৈরি হয় সমস্যাও। কখনও কখনও আত্মবিশ্বাস অহংকারে বদলে যায়। অতিরিক্ত কর্তৃত্বপরায়ণতা বা একগুঁয়েমি তাঁদের সম্পর্ক, ক্যারিয়ার বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে—জ্যোতিষশাস্ত্র এমনই সতর্কবার্তা দিচ্ছে।