
Lord Shiva Favourite Rashi: হিন্দু ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব মহাশিবরাত্রি ২০২৬ সালে ভক্তদের জীবনে বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে আসতে চলেছে। ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত এই পবিত্র তিথি দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার জন্য সর্বাধিক শুভ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, মহাশিবরাত্রির দিনে কিছু নির্দিষ্ট রাশির উপর শিবের বিশেষ কৃপা বর্ষিত হয়।
মহাশিবরাত্রির তিথি ও সময়
পঞ্জিকা অনুযায়ী, মহাশিবরাত্রি ২০২৬ পড়ছে ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার। চতুর্দশী তিথি শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৫টা ০৪ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৫টা ৩৪ মিনিটে। নিশীথ কালের পূজা সবচেয়ে শুভ বলে মানা হয়, যা ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ০৯ মিনিট থেকে ১টা ০১ মিনিট পর্যন্ত। ভক্তরা ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারি ব্রত রাখতে পারবেন, আর ব্রত পারণ হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা ৫৯ মিনিটের পর।
জ্যোতিষ মতে, ভগবান শিবের সবচেয়ে প্রিয় রাশি হল বৃষ, কারণ তিনি এই রাশির অধিপতি। এছাড়াও কর্কট, মকর ও কুম্ভ, এই তিন রাশির জাতকরাও মহাশিবরাত্রির দিনে বিশেষভাবে লাভবান হবেন। এই চার রাশির মানুষের জীবনে ধন, স্বাস্থ্য, কর্মক্ষেত্র এবং পারিবারিক সুখে উন্নতির যোগ রয়েছে।
বৃষ রাশির জাতকরা এই দিনে সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যের মুখ দেখবেন। কর্মক্ষেত্রে উন্নতি, আর্থিক লাভ ও সুস্বাস্থ্য বজায় থাকবে। শিবলিঙ্গে দুধ ও বেলপাতা অর্পণ করে ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করলে মনস্কামনা পূর্ণ হতে পারে। কর্কট রাশির জাতকরা পাবেন মানসিক শান্তি ও পারিবারিক সুখ। চাকরি ও ব্যবসায় লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। রুদ্রাক্ষ মালায় জপ ও জলাভিষেক করলে বিশেষ ফল মিলবে।
মকর রাশির জাতকদের আর্থিক পরিস্থিতি শক্তিশালী হবে এবং পুরনো সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে। এই দিনে ভগবান শিবকে ভাং, ভস্ম ও বেলপাতা অর্পণ করা শুভ। অন্যদিকে কুম্ভ রাশির জাতকদের দাম্পত্য জীবন সুখময় হবে এবং সন্তানের সুখ লাভের যোগ রয়েছে। সোমবার ব্রত পালন ও মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করলে জীবনের বাধা দূর হবে বলে বিশ্বাস।
মহাশিবরাত্রিতে রাত্রিজাগরণ করে চার প্রহরে শিবপূজা করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। দুধ, দই, ঘি ও মধু দিয়ে শিবলিঙ্গে অভিষেক, সঙ্গে বেলপাতা, ধুতুরা ও ভাং অর্পণ করলে মহাদেব প্রসন্ন হন। ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ ও ধ্যানে আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ প্রশস্ত হয় বলে মত ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের।