
Mangal Shani Rashi: গ্রহ-নক্ষত্রের চলন আর মহাজাগতিক সংকেত, এই দুইয়ের প্রভাবেই নির্ধারিত হয় মর্ত্যের ভাগ্য। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের শুরুতেই মহাকাশে তৈরি হতে চলেছে এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিরল যোগ। জ্যোতিষ গণনা অনুসারে, আগামী ২ এপ্রিল দুপুর ৩টে ৩৭ মিনিটে মীন রাশিতে প্রবেশ করতে চলেছে মঙ্গল। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছে শনি ও সূর্য। ফলে মীন রাশিতে মঙ্গল ও শনির এক বিশেষ যুতি গঠিত হবে, যাকে জ্যোতিষশাস্ত্রে অত্যন্ত ‘অশুভ’ ও ‘বিস্ফোরক’ যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আগামী ১১ মে পর্যন্ত এই অশুভ যোগের প্রভাব বজায় থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জ্যোতিষ মতে, মঙ্গল হলো শক্তি, সাহস ও আগুনের প্রতীক। অন্যদিকে, শনি কঠোরতা ও কর্মফলের দণ্ডনায়ক। এই দুই বিপরীতধর্মী গ্রহ যখন এক রাশিতে অবস্থান করে, তখন তা ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে বিশ্ব পরিস্থিতিতেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বর্তমানে ইরান-আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্যের যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি চলছে, এই সময়ে তার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি-র আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষের হেঁশেলে টান ধরাতে পারে। মূল্যবৃদ্ধির জেরে বিভিন্ন দেশে জনরোষ বা বিক্ষোভ দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল।
এই বিশেষ গ্রহযোগের নেতিবাচক প্রভাব সবথেকে বেশি পড়তে পারে সিংহ, কুম্ভ এবং মীন রাশির জাতকদের ওপর। সিংহ রাশির ক্ষেত্রে পেশাগত ও আর্থিক লেনদেনে চরম সতর্কতার প্রয়োজন। কুম্ভ রাশির জাতকদের কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে, মীন রাশিতেই এই যোগ তৈরি হওয়ায় এই রাশির জাতকদের সিদ্ধান্তহীনতা ও বিভ্রান্তি চরমে পৌঁছাতে পারে। এই অশুভ দশা কাটাতে বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন হনুমান চালিশা পাঠ এবং শিবের আরাধনার পরামর্শ দিচ্ছেন। ২০২৬-এর এই সংকটকালে ধৈর্য ও ইতিবাচক মনোভাবই হতে পারে প্রতিকূলতা জয়ের একমাত্র চাবিকাঠি।