
অর্থ সঞ্চয় করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই অর্থ কোথায় এবং কীভাবে রাখা হচ্ছে; তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অনেকেই। বিশেষ করে বাস্তু শাস্ত্র মেনে চলা মানুষের কাছে এই বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাস্তু মতে, বাড়ির নির্দিষ্ট দিক ও স্থানে টাকা বা মূল্যবান জিনিস রাখলে তা নাকি আর্থিক স্থিতি ও সমৃদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করে।
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির উত্তর দিককে সম্পদের দিক হিসেবে ধরা হয়। এই দিকের অধিপতি হলেন কুবের, যিনি ধন-সম্পদের দেবতা হিসেবে পরিচিত। তাই বাড়ির উত্তর দিকে যদি আলমারি বা লকার রাখা যায়, তা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। শুধু তাই নয়, সেই আলমারির দরজা দক্ষিণমুখী হলে আরও ভাল ফল পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।
এছাড়াও, পূর্ব দিকও অর্থ রাখার জন্য ভালো বলে মনে করা হয়। সূর্যের আলো পূর্ব দিক থেকে আসে, যা ইতিবাচক শক্তির প্রতীক। ফলে পূর্বদিকে রাখা আলমারিতে অর্থ রাখলে ঘরে পজিটিভ এনার্জি বৃদ্ধি পায় বলে ধারণা।
তবে দক্ষিণ দিক বা দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে টাকা রাখার বিষয়ে বাস্তু বিশেষজ্ঞরা কিছুটা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন। এই দিককে স্থিতিশীলতার দিক বলা হলেও, সঠিক নিয়ম না মানলে অর্থ আটকে যেতে পারে বা আর্থিক সমস্যাও তৈরি হতে পারে বলে মত তাঁদের।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আলমারির অবস্থান। বাস্তু মতে, আলমারি কখনওই সরাসরি মেঝের সঙ্গে লাগিয়ে না রেখে সামান্য উঁচুতে রাখা ভালো। এছাড়া আলমারির ভিতর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। অগোছালো বা নোংরা আলমারিতে অর্থ রাখলে তা নাকি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অনেকেই আবার আলমারির ভিতরে লাল বা হলুদ কাপড় ব্যবহার করেন, যা বাস্তু মতে শুভ বলে মনে করা হয়। এই রঙগুলি সমৃদ্ধি ও শুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি, লকার বা আলমারির দরজা যেন ভাঙা বা খারাপ না হয়, সেদিকেও নজর রাখা উচিত।
বাস্তু শাস্ত্র অনুযায়ী এই সব নিয়ম মানলে ঘরে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়। যদিও এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবু বহু মানুষ এই নিয়ম মেনে চলেন এবং নিজেদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করেন বলে দাবি করেন।
সব মিলিয়ে, বাড়িতে টাকা রাখার ক্ষেত্রে শুধু নিরাপত্তা নয়, বাস্তু মতও অনেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক দিক ও নিয়ম মেনে চললে নাকি আর্থিক স্থিতি আরও মজবুত হতে পারে; এমনটাই মনে করেন বাস্তু বিশেষজ্ঞরা।