Advertisement

স্পেশাল

এক সময় কলকাতায় ট্যাক্সিও চালিয়েছেন বিধান রায়

সুমনা সরকার
  • 30 Jun 2021,
  • Updated 9:02 PM IST
  • 1/10

একই দিনে জন্ম এবং মৃত্যু— এমনই অদ্ভুত সমাপতন যে ব্যক্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তাঁর নাম ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়। গোটা জীবনে নানা মিথ তৈরি করেছেন তিনি। ডাক্তার হবার ইচ্ছা ছিল না; তবুও এই কাজেই হয়ে উঠেছিলেন সর্বসেরা। ভারতের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল তাঁর নাম। তবে তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও এক আশ্চর্য কিংবদন্তি  অধ্যায়। যা শেষ হয় এক অপূর্ণ প্রেমকাহিনিতে… 
 

  • 2/10

তিনি মরণাপন্নকে নতুন জীবন দিতে পারতেন। মৃতবৎকে বাঁচাতে পারতেন। চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল সহজ সরল। ডাক্তারি টেকনিক্যাল ওষুধ দিতেন কম। মনকে জয় করতেন বেশী।  তাঁর সম্মানে সারা ভারত প্রতিবছর ১ জুলাই “চিকিৎসক দিবস” উদযাপন করে।  বিহারের পাটনাতে ১৮৮২ সালের পয়লা জুলাই  জন্মগ্রহন করেছিলেন বিধানচন্দ্র রায়। প্রথম দিন থেকেই পড়াশুনায় যথেষ্ট মেধাবী ছিলেন তিনি। ১৯১১ সালে ইংল্যান্ড থেকে এফ.আর.সি.এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতার ক্যাম্বেল মেডিক্যাল স্কুলে (বর্তমানে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ) শিক্ষকতা ও মানুষের চিকিৎসা শুরু করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট সদস্য, রয়্যাল সোসাইটি অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন ও আমেরিকান সোসাইটি অফ চেস্ট ফিজিশিয়ানের ফেলো নির্বাচিত হন।

  • 3/10

কখনও চিকিৎসক হিসাবে রোগীদের, কখনও উপাচার্য হিসাবে ছাত্রদের, কখনও মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাজ্যবাসীকে। এককথায় ‘বিধান’ নামটি সার্থক। কেশবচন্দ্র সেনের ‘নববিধান’ নামে বইয়ে অনুপ্রাণিত হয়েই পিতা প্রকাশচন্দ্র রায় ‘বিধান’ নামকরণ করেছিলেন। মুখ দেখেই রোগ নির্ণয় করার এমন ‘অলৌকিক বিদ্যা’ রপ্ত করেছিলেন ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় যে হতদরিদ্র থেকে রাজা-উজিরের কাছে তিনি ছিলেন ধন্বন্তরি চিকিত্সক। কেউ কেউ বলতেন তাঁর দিব্যদৃষ্টি রয়েছে। মহাত্মা গান্ধী বলতেন,  “বিধান, দ্য সেফ্টি হ্যান্ড অব ইন্ডিয়া।”

  • 4/10

জানেন কি তাঁর পেশাগত জীবন শুরু হয়েছিলো রোগী দেখার পাশাপাশি কলকাতা শহরে পার্ট টাইম ট্যাক্সি চালানোর মধ্য দিয়ে। সে সময় হঠাৎ এক তরুনীর প্রেমে পড়লেন তরুণ এই চিকিৎসক। মেয়ের বাবা ছিলেন তখনকার সময়ের বিখ্যাত চিকিৎসক ডা. নীলরতন সরকার। 

  • 5/10

১৯১১ সাল নাগাদ বিধান চন্দ্র রায় মাত্র দুই বছর তিন মাসের ব্যবধানে তাঁর এমআরসিপি এবং এফআসসিপি উভয় ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।  ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের প্রভাবে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচনে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন। পরে কলকাতা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩১ সালে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন। ১৯৪২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনোনীত হন। ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থীরূপে আইনসভায় নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালে গ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব। তাঁর চোদ্দো বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বকালে নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রভূত উন্নতি সম্ভব হয়েছিল। এই কারণে তাঁকে বাংলার রূপকার নামে অভিহিত করা হয়।
 

  • 6/10

নিজেকে শুধু চিকিত্সার গণ্ডির মধ্যে বেঁধে রাখেননি বিধানচন্দ্র রায়। শিক্ষা, শিল্প, রাজনীতি, দর্শন সব ক্ষেত্রে সমান দক্ষতা রেখে গেছেন।  ১৯৬১ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হন। মৃত্যুর পর তাঁর সম্মানে কলকাতার সন্নিকটস্থ উপনগরী সল্টলেকের নামকরণ করা হয় বিধাননগর। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিন (১ জুলাই) সারা ভারতে “চিকিৎসক দিবস” রূপে পালিত হয়। বিধানবাবু এক জন বহুমুখী সক্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। বাংলায় ভারী শিল্প এবং সমস্ত নতুন নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর, সবই তো ব্যক্তিগত ভাবে তাঁর নিজের হাতে করা। 

  • 7/10

জানা যায়  ১৯৬২ সালের ১ জুলাই তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তিনি। জন্মদিনের দিন বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন  আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব।  প্রতিদিনের মতো এক গ্লাস ফলের রসও খেলেন। তারপরই বললেন নিজের দীর্ঘ জীবনের কথা। কোনোরকম অতৃপ্তি নেই তাঁর। যেন অপার এক শান্তি নেমে আসছে চারদিকে। ধীরে ধীরে পা ঠান্ডা হয়ে এল। একসময় থেমে গেল হৃদস্পন্দন। চিত্তরঞ্জন দাশের স্ত্রী বাসন্তী দেবী তখনও জীবিত ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “বিধান পুণ্যাত্মা, তাই জন্মদিনেই চলে গেল। ভগবান বুদ্ধও তাঁর জন্মদিনে সমাধি লাভ করেছিলেন।”
 

  • 8/10

চিকিৎসক হিসেবে তিনি আগাগোড়াই ছিলেন স্বনামধন্য। তাঁর চিকিৎসায় রোগ নিরাময় হয়েছে সাধারণ ব্যক্তি থেকে আরম্ভ করে একাধিক দিকপাল মানুষের। স্বয়ং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ওনার চিকিৎসাধীন। মতিলাল নেহরু, মহাত্মা গাঁধী, জওহরলাল নেহরু, কমলা নেহরু, বল্লভভাই পটেল, ইন্দিরা গাঁধী থেকে কে না তাঁর চিকিৎসা পরামর্শ নিতেন! তাঁকে বলা হত ধন্বন্তরি। সেই সঙ্গে আছে অজস্র স্মৃতি  যা আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। তবে চিকিৎসক হিসেবে খ্যাতি নিয়েই নয়, জনশ্রুতি আছে তাঁর প্রেম নিয়েও। যদিও এর কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
 

  • 9/10

কেন চিরকুমার রইলেন বিধান রায়? শোনা যায় তখনকার সময়ে  বিখ্যাত চিকিৎসক ডঃ নীলরতন সরকারের , যার নামাঙ্কিত আজ নীলরতন সরকার হাসপাতাল,  তারই কনিষ্ঠা কন্যা  কল্যাণীর পাণিপ্রার্থী হন তিনি । তখন অবশ্য বিধান রায় সদ্য ডাক্তারি পাশ করেছেন। প্র্যাকটিসও শুরু করেছেন একটু একটু করে। রোজগার খুব বেশি নয়। পারিবারিক দিক থেকেও খুব বিত্তশালী, তাও নন। সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবার। সেই সময়ই হৃদয়বিনিময় হয় কিংবদন্তি ডাক্তার নীলরতন সরকারের মেয়ে কল্যাণীর সঙ্গে। একটা সময় সেই খবর জানতে পারলেন নীলরতন। একদিন ডাকলেন বিধানকে। জিজ্ঞেস করেছিলেন তাঁর রোজগার সম্পর্কে। অঙ্কটি শুনে নীলরতনের জবাব ছিল, তাঁর মেয়ের হাতখরচ এর থেকে বেশি। জবাবটা ভালো লাগেনি বিধান রায়ের। বুঝে গিয়েছিলেন, এই সম্পর্ক আর পরিণতি পাবে না। সেই আবেগই কি তাঁকে চিরকাল একা করে রাখল? চিরকুমার হয়ে রইলেন তিনি? অন্তত জনপ্রবাদ তো তাই বলে!

  • 10/10

 কিন্তু এর কি লিখিত প্রমাণ আছে কোনো? নাহ! তবে লোকের মুখে-মুখে যে কাহিনি এসে পৌঁছেছে একুশ শতকেও, তাকে কি এক ফুঁয়ে উড়িয়েও দেওয়া যায়! এই ঘটনার সমান্তরালে এসে জুড়ে যায় বিধানচন্দ্র রায়ের জীবনের আরও একটি অধ্যায়। তখন তিনি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে। ১৯৫০ সালে কলকাতা থেকে ৫০ কিমি দূরের নদিয়া জেলার একটি জায়গায় তৈরি করলেন শহর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গঙ্গার ধারে জায়গাটি ছিল মার্কিন সেনাদের ছোটোখাটো উপনিবেশ, নাম ছিল ‘রুজভেল্ট নগর’। পরবর্তী সময় সেখানেই বিধানচন্দ্র তৈরি করলেন ‘কল্যাণী’। নামটা কি খুব কাকতালীয়? অনেকের মতে, প্রিয়তমা কল্যাণীর সঙ্গে অপূর্ণ পরিণয়ের স্মৃতি থেকেই এই নামটি বেছেছিলেন বিধান রায়। 

Advertisement
Advertisement