
মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুরের এক কৃষক লাভজনক ব্যবসা করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তিনি তার পৈতৃক বাগান সম্প্রসারণ করে তৈরি করেছেন আম বাগান। তার বাগানে ল্যাংড়া, কেশর, চৌসা, সিন্দুরি, রাজাপুরি, হাপুস প্রভৃতি ২৬ জাতের আমের গাছ লাগানো হয়েছে। এটি জেলার ছোট উন্ডওয়া গ্রামের কৃষক যুবরাজ সিংয়ের সাফল্যের গল্প।
যুবরাজ জানান, আলীরাজপুর জেলার মাটিতে আর্দ্রতা থাকায় আম চাষের উপযোগী। এখানকার আমের স্বাদ সারা দেশে বিশেষ পরিচিত। যুবরাজ জানান, প্রতি বছর তিনি সরাসরি বিভিন্ন জাতের আম বিক্রি করেন। আলীরাজপুরের আমের বিশেষত্ব এটাই মানুষ মরসুমের আগেই আম বুকিং করে এবং অগ্রিম টাকা দেয়।
নূরজাহানের দাম প্রতি কেজি ১০০০ টাকা।
যুবরাজ বলেন, কয়েক বছর আগে জেলার কাঁথিওয়াড়া থেকে গ্রাফটিং করে ‘নূরজাহান’ আমের চারা এনেছিলাম। আমি আমার বাগানে এটি রোপণ করেছি এবং আজ ছোট গাছটি বড় হয়েছে। এর বিশেষত্ব হলো একটি আমের ওজন প্রায় তিন কেজি, যার দাম প্রতি কেজি ১০০০ টাকা।
বাগানে ৫০০ আমের চারা রোপণ করেছেন
যুবরাজ সিং বলেন, আমি সবসময় আমার দাদা ও বাবাকে আম বাগানে কাজ করতে দেখেছি। তার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ৭ বছর আগে বাগানে ৫০০ আমের চারা রোপণ করি। এতে জাফরান ও অন্যান্য জাতের আমের মোট দুই হাজারের বেশি গাছ রয়েছে। গত ১০ বছরে দেশের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত আম উৎসবে বহুবার প্রথম পুরস্কার পেয়েছি।
অনলাইনে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা মূল্যের বিক্রি
কৃষক জানান, গত বছর অনলাইন বাজারে মরসুমের সময় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। এ ছাড়া আমি ৫ কেজির বাক্স তৈরি করে সরাসরি বাজারে ও অন্যদের কাছে আম বিক্রি করেছি। আলীরাজপুর একটি আদিবাসী এলাকা হওয়ায় এখানকার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস আম। আলীরাজপুরে বড় বাজার থাকায় আম বিক্রির জন্য মানুষকে শহরের বাইরে যেতে হয় না।