
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে চলা টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ তারা বিশ্বকাপে খেলবে না। ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। তাদের দাবি, আইসিসি তাদের প্রতি অন্যায় করেছে। ন্যায় বিচার করেনি। শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিকে মান্যতা দেয়নি। সেই কারণে তারা নিজেদের অবস্থানে অনড়। ভারতে কোনওমতেই খেলতে রাজি নয়।
ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, 'আমরা মাথা নত করব না। সবার শেখা উচিত, বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ না খেলে তাহলে কী হবে। আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারি না। সেজন্য আমরা খেলব না।'
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে চায় না বলে জানিয়েছিল আইসিসি-কে। তবে তাদের দাবিকে মান্যতা দেয়নি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। সমস্যা সমাধানের জন্য বুধবার ভোটাভুটি হয়। ১৪-২ ভোটে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। এরপর লিটন দাসদের বোর্ডকে জানিয়ে দেওয়া হয়, আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিশ্বকাপে খেলার ব্যাপারে। সেই মোতাবেক বাংলাদেশ জানায়, তারা বিশ্বকাপ বয়কট করছে। কোনওমতেই ভারতে খেলবে না।
যদিও সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ যদি না খেলে সেক্ষেত্রে স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশের জায়গায় খেলানো হবে। তবে সেই ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আইসিসিও এই ব্যাপারে এখনও মুখ খোলেনি।
ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাংবাদিক বৈঠকের পর বলেন, 'আমাদের বোর্ড ও বাংলাদেশের ক্রিকেটাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমরা ক্রিকেট ও বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী। কারণ আমরা সেটা অর্জন করেছি। কিন্তু ভারতে খেলার ক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে। এটা কোনও বায়বীয় ধারণা নয়। এটা সত্যি। আমাদের দেশের একজন সেরা খেলোয়াড়কে ভারত থেকে বের করে দিয়েছে। উগ্রবাদীদের কাছে মাথা নত করেছে বিসিসিআই। কিন্তু আইসিসি এখনও বলছে বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে হবে। এটা তো মানা যায় না। ওই ঘটনার পর কী এমন পরিবর্তন এসেছে ভারতে যে, আমরা ধরে নিতে পারব ভারত এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটার, সাংবাদিক বা দর্শকদের নিরাপত্তা দিতে পারবে? আইসিসি এই বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি। ভারত সরকারও আমাদের রাজি করানোর কোনও প্রয়োজনিয়তা বোধ করেনি। ফলে ভারতে খেলতে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত তা থেকে সরে আসার কোনও প্রশ্নই নেই।'
ক্রীড়া উপদেষ্টার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, এখনও বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই খেলতে চান তাঁরা। সেজন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এরই মধ্যে পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার রশিদ লতিফের দাবি, পাকিস্তানেরও উচিত টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করা। সেই ব্যাপারে তাদের বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, ICC-র মধ্যে বিশৃঙ্খলা রয়েছে। তা দমন করা দরকার পাকিস্তানের। সেজন্যই তাদের টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।
পাকিস্তানের এক ইউটিউব চ্যানেলে রশিদ লতিফ বলেন, 'যদি ভারত ও পাকিস্তান না হয় তাহলে তো বিশ্বকাপের অর্ধেক শেষ। এভাবে বিদ্যমান ক্রিকেট শৃঙ্খলাকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। এটাই পাকিস্তানের জন্য দুর্দান্ত সুযোগ।' লতিফ জানান, পাকিস্তানের নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে পরিষ্কার করে বলা দরকার, তারা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে আর খেলতে চায় না। এটাই উপযুক্ত সময়।'