
তাঁকে নিয়েই শুরু যাবতীয় বিতর্ক। তবুও তিনিই নির্বিকার। এমনিতেই সাংবাদিকদের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলেন না মুস্তাফিজুর রহমান। অল্প কথায় নিজের উত্তর দিয়ে চলে যান। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাঁকে কেকেআর বাদ দেওয়ার পরেই পাল্টা দেওয়ার খেলায় নামে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিশ্বকাপ থেকেই দল তুলে নেয়। তবুও কিছুই মন্তব্য করতে চান না ফিজ।
তবে তাঁর হয়ে মুখ খুলেছেন ধূমকেতু একাদশ কোচ সালাউদ্দিন। তিনি সাংবাদিকদের জানান মুস্তাফিজুরের প্রতিক্রিয়া। প্রশ্নটা আমি নিজেই মুস্তাফিজকে জিজ্ঞেস করছিলাম, “তুমি কী মনে করছ?” সে বলল, “লেট ইট গো।” মানে যা চলে যাওয়ার, সেটা চলে গেছে।’
এবারের আইপিএলের জন্য ৯ কোটি ২০ লাখ টাকায় মুস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু পরে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাঁকে বাদ দেয় শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজি। কিন্তু মুস্তাফিজ নাকি মনে করছেন, যেটা তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই।
মুস্তাফিজের কাছ থেকে বিষয়টা শেখার চেষ্টা করছেন সালাউদ্দিনও, ‘আমার মনে হয়, মোস্তাফিজের কাছ থেকে এটা ভালো জিনিস শেখার মতো। এতগুলো টাকা বলেন বা যা–ই বলেন—ও তো হতাশায় ভুগতে পারত। কিন্তু সে জানে যে এটা আসলে নিয়ন্ত্রণে নেই। তার হাতে তো ছিল না। মুস্তাফিজের কাছ থেকে আমি এটা শিখেছি এবং অন্যরাও হয়তো এটা থেকে শিখবে।’
দুই বছর ধরে বিশ্বকাপের আশায় থাকা ক্রিকেটারদের স্বাভাবিকভাবেই তাতে হতাশ থাকার কথা। সালাউদ্দিনও সে রকমই মনে করেন, ‘সত্যি বলতে এটা আসলে মাথা থেকে যাওয়াটা অনেক কঠিন। সবাইকে তো মানসিকভাবে শক্তিশালী বলা যাবে না। হতাশা কাটানোও মুশকিল। কিন্তু দিন শেষে আমি যেটা বললাম, আপনি যদি এটা নিয়ে পড়ে থাকেন, আপনার ক্ষতি ছাড়া অন্য কিছু করছেন না।’
ক্রিকেটাররা দ্রুতই হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারবেন আশা জানিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে তারা হয়তো ওভাবেই দেখবে এটা। কিন্তু সবাই তো আসলে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এটা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা মানুষ, আমাদের ভেতরে দুঃখ-কষ্ট থাকবেই, সুখও থাকবে। কিন্তু কীভাবে আমি সামনে চলতে পারব, সেটার জন্য হয়তো আমাকে বর্তমান অবস্থায় থাকাটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি যে ছেলেরা এটা কাটিয়ে উঠবে এবং তারা এই টুর্নামেন্টে মনোযোগ রাখবে।