
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল খেলতে না দেওয়া নিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। আর সেই বিতর্কের জেরেই এবার ফাঁস হল বাগ্লাদেশ ক্রিকেটের কঙ্কালসার অবস্থা। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাই একাধিক অভিযোগ সামনে আনলেন। আর এই গোটা ঘটনা ঘটল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্তা নাজমুল ইসলাম। তিনি 'অপমান' করতেই, ফুঁসে উঠলেন ক্রিকেটাররা। বন্ধ হল বিপিএলও (Bangladesh Cricket Board)। দেখে নেওয়া যাক কোন পাঁচ সমস্যার কথা তুলে ধরলেন ক্রিকেটাররা।
বিসিবির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও হস্তক্ষেপ: বোর্ড পরিচালকদের ব্যক্তিগত এজেন্ডা ও রাজনৈতিক প্রভাব খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে, যা দলের ঐক্য নষ্ট করছে। নাজমুলের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট হয়েছে। কারণ তিনি যে ভারত বিরোধিতার পাশাপাশি আইসিসিকেও কার্যত বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিরোধী বানিয়ে দিতে চাইছিলেন, তাতে আখেরে ক্ষতি হত বাংলাদেশ ক্রিকেটের।
খেলোয়াড়দের আর্থিক ও মানসিক চাপ: বেতন, বোনাস, ও স্পনসরশিপ নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে খেলোয়াড়দের বিরোধ চলছে, যা তাদের মানসিক সুস্থতা ও মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ক্ষেত্রেও যা দেখা গিয়েছে। বোর্ডের অব্যবস্থাপনার কারণে খেলোয়াড়দের বিদ্রোহ (যেমন BPL-এ), ম্যাচ পরিচালনায় অনিশ্চয়তা এবং দলের ভেতরে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট, যা একটি পরিপক্ক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে বাধা দিচ্ছে।
বিসিবির গঠনতন্ত্রে গলদ: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্রে ক্রিকেটারদের শাস্তি দেওয়ার কথা বা বহিস্কারের কথা থাকলেও বোর্ড কর্তাদের জন্য এমন আইন নেই। যা বিস্ময়কর। সে কারণেই নাজমুল যখন প্লেয়ারদের অপমান করছেন তখন তাকে সব দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হলেও, বোর্ড থেকে বের করে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে শাসন করার জন্যই এমন আইন বানিয়েছেন?
ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মানের মধ্যে ফারাক: তামিম ইকবালের মতো খেলোয়াড়দের মতে, আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা ও পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে, যা খেলোয়াড়দের প্রস্তুতিতে বাধা দিচ্ছে এবং টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্য্যের অভাব প্রকট করে তুলছে।
মহিলা ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বাংলাদেশ বোর্ড: মহিলা ক্রিকেটারদের যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ আগেই উঠেছিল। বাংলাদেশের প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটার জাহানারা আলম সে দেশেরই এক ইউটিউব চ্যানেলে এ নিয়ে অভিযোগও করেছিলেন। চাপের মুখে বোর্ড কর্তারা তদন্তের আশ্বাস দিলেও, তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। নাজমুলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় ক্রিকেটাররা ফের এই দাবি তুললেও, তা তাঁদের মূল দাবি ছিল না। ফলে গোটা বিষয়টা ধোপে টেকেওনি। উপেক্ষিতই থেকে গিয়েছে মহিলা ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি।