Advertisement

১০ দিনেই পাকিস্তানের U-টার্ন, জয় শাহদের কোন স্ট্র্যাটেজিতে PCB মাথা নোয়াল?

T20 বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে যাবতীয় টানাপোড়েন অবশেষে শেষ। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নির্ধারিত ভারত-পাক ম্যাচ বয়কটের ডাক থেকে সরে এল পাকিস্তান। এর অর্থ হল, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি হচ্ছেই।

T20 বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে যাবতীয় টানাপোড়েন অবশেষে শেষ।T20 বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে যাবতীয় টানাপোড়েন অবশেষে শেষ।
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 10 Feb 2026,
  • अपडेटेड 9:12 AM IST
  • T20 বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে যাবতীয় টানাপোড়েন অবশেষে শেষ।
  • ভারত-পাক ম্যাচ বয়কটের ডাক থেকে সরে এল পাকিস্তান।
  • এই বিতর্কের সূত্রপাত বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে।

T20 বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে যাবতীয় টানাপোড়েন অবশেষে শেষ। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নির্ধারিত ভারত-পাক ম্যাচ বয়কটের ডাক থেকে সরে এল পাকিস্তান। এর অর্থ হল, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি হচ্ছেই। অনেকেই ভাবছেন পাকিস্তান নিজেদের সিদ্ধান্তে এহেন ইউ-টার্ন নিয়েছে। আসলে কিন্তু তা নয়। আইসিসি পাকিস্তানের উপর এমন কিছু চাপ সৃষ্টি করেছে, যা PCB-কে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ফলে পাকিস্তানের যাবতীয় হাঁক-ডাক এখন শেষ।

এই বিতর্কের সূত্রপাত বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশ ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে রাজি না হলে, পাকিস্তান বিসিসিআই এবং বিসিবির মধ্যে বিরোধের মধ্যে নেমে পড়ে। কোনও কারণ ছাড়াই পাকিস্তান এবিষয়ে জলঘোলা করতে শুরু করে। কিন্তু যখন আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাইরে বের করে দেয়, তখন পাকিস্তান অন্য কৌশল অবলম্বন করে। PCB-র তরফে জানানো হয়, তারা বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে, কিন্তু বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মিতা রেখে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে। ১ ফেব্রুয়ারি এই ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

আইসিসি পাকিস্তানকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলে। কারণ ICC-সহ সারা বিশ্বের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আদতে ভারতকে চাপে রাখতেই এহেন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। যদিও BCB এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেই ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে ICC একটি দারুণ প্ল্যান করে। পাকিস্তানের সহযোগী দেশের মাধ্যমেই চাপ সৃষ্টি করা হয় পাক প্রশাসন ও PCB-র উপর। সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, আরব আমিরশাহী ও শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কা এবারের বিশ্বকাপের কো-অর্গানাইজার হিসেবে কাজ করছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটিও কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। যদি এই ম্যাচটি না হত, তাহলে শ্রীলঙ্কা উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হতো।  শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে ফোনে কথা বলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য তাকে অনুরোধ করেন। শ্রীলঙ্কা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী ক্রিকেট সম্পর্ক এবং কঠিন সময়ে একসঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ পাকিস্তানকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

Advertisement

এরপর সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে আরও চাপ আসে পাকিস্তানের উপর। এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) পিসিবিকে চিঠি লিখে মনে করিয়ে দেয় যে, কঠিন সময়ে পাকিস্তান কীভাবে আরব আমিরশাহীতে তাদের হোম ম্যাচ খেলেছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে আছে। ইসিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে,ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট করা কেবল দুই দেশের মধ্যেকার বিষয় নয়, বরং সমগ্র ক্রিকেটের উপর, বিশেষ করে সহযোগী দেশগুলির অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।

পাকিস্তানের উপর তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টটি এসেছিল বাংলাদেশ থেকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে লাহোর সফর করে মহসিন নকভির সঙ্গে দেখা করেন। যেখানে পাকিস্তান একসময় বাংলাদেশের সমর্থনে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে আপত্তি জানায়, সেখানে বাংলাদেশই পাকিস্তানকে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলার জন্য প্রকাশ্যে আবেদন করে। ফলে পাকিস্তানের উপর চাপ আরও বাড়ে।

অন্যদিকে, ICC আরও স্পষ্ট ভাবে পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশের সমর্থনে সরে আসে। ICC-র তরফে জানানো হয়, বাংলাদেশের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে না, কোনও আর্থিক পেনাল্টিও চাপানো হচ্ছে না। এমনকি ভবিষ্যতে আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের অনুমতিও পাবে পদ্মাপারের দেশ। তাছাড়া রাজস্ব ভাগও নিরাপদই থাকবে। এর অর্থ হল পাকিস্তান আর বাংলাদেশের হয়েও কথা বলতে পারছে না। ফলে ম্যাচ খেলা ছাড়া আর উপায় ছিল না PCB-র।
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement