
ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে ICC T20 বিশ্বকাপ ২০২৬। তারপরও অনেক ক্রিকেটার দেশে ফিরতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনেকেই আটকে রয়েছেন কলকাতায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জন্যই ঘরে ফেরা হয়নি তাঁদের। আর সেই বিষয়েই বিবৃতি দিল আইসিসি। তাদের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, 'ICC T20 বিশ্বকাপ ২০২৬ শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এবং তাঁদের পরিবার দ্রুত দেশে ফিরতে চাইছেন। এটা আমরা বুঝতে পারছি। এখনও পর্যন্ত তাঁদের ফিরতে না পারা স্বাভাবিকভাবেই হতাশার কারণ। আর এই হতাশা আইসিসি-ও ভাগ করে নিচ্ছে।'
কেন এমন পরিস্থিতি?
কেন ক্রিকেটারদের দেশে ফেরান যাচ্ছে না, সেটাও জানিয়ে দিয়েছে আইসিসি। তাদের তরফে দাবি,
'এহেন দেরি হওয়ার মূল কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলে সঙ্কটময় পরিস্থিতি। যার ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। আকাশসীমা বন্ধ থাকা, মিসাইলের সতর্কতা, বিকল্প রুটে বিমান চালানো, বাণিজ্যিক ও চার্টার ফ্লাইট হঠাৎ বাতিল বা সময় বদলে যাওয়ার জন্য ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিগুলি সম্পূর্ণভাবে আইসিসির নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যার ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় একটি জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া অনেক বেশি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।'
কী ব্যবস্থা নিচ্ছে আইসিসি?
যদিও পরিস্থিতির উপর সবটা ছেড়ে দিতে রাজি নয় আইসিসি। তাদের পক্ষ থেকে বিবৃতি গিয়ে জানান হয়েছে যে, 'যাঁরা আটকে পড়েছেন, তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে দেশে ফেরানোর জন্য আইসিসি একাধিক দেশের এয়ারলাইনস, চার্টার অপারেটর, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার এবং সরকারি স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছি।'
আর কী খবর?
আইসিসি-এর তরফ থেকে আরও দাবি করা হয় যে, 'আজ রাত থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সদস্যরা সেই দেশের উদ্দেশে রওনা হতে শুরু করবেন। আশা করা হচ্ছে আগামী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সবাই রওনা হয়ে যাবেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৯ জন সদস্য ক্যারিবিয়ানের দিকে রওনা হয়েছেন। আর বাকি ১৬ জনের জন্য আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত থেকে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য দলগুলির যাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত ব্যবস্থা হলে আমরা পরবর্তী আপডেট জানাব।'
এর পাশাপাশি ক্রিকেট কাউন্সিল দাবি করেছে যে, 'এই সিদ্ধান্তগুলি শুধুমাত্র নিরাপত্তা, বাস্তব অবস্থা এবং সকলের ভালর কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে যারা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত না হয়ে অন্য ধরনের ইঙ্গিত করছেন, তারা ভুল করছেন।'
এছাড়া আইসিসি-এর পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ক্ষেত্রে নেওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে ইংল্যান্ড বা অন্য কোনও দেশের ক্ষেত্রে আগে নেওয়া ব্যবস্থার কোনও সম্পর্ক নেই। প্রতিটি পরিস্থিতি আলাদা। রুট ভিন্ন।
পাশাপাশি এই গোটা সময়ে আইসিসির প্রধান অগ্রাধিকার ছিল সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর সেই তালিকায় ক্রিকেটাররা ছাড়াও, তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানরা রয়েছেন। তাই তখনই কাউকে যাত্রা করতে দেওয়া হয়েছে, যখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গিয়েছে বলে জানাচ্ছে আইসিসি।