
দারুণ ছন্দে সঞ্জু স্যামসন। তাঁর ব্যাট থেকে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি এল সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। তাঁর প্রিয় ইডেন গার্ডেন্সে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওপেন করতে নেমে চাপের মধ্যে তাঁর ৯৭ রানের এই ইনিংস ভারতকে সসেমিফাইনালে ওঠার রাস্তা দেখিয়ে দিল।
গোটা ইনিংস একাই টানলেন সঞ্জু
১৯৬ রানের জবাবে, সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মার জুটি ভাল শুরু করে। তবে, তৃতীয় ওভারের শেষ বলে অভিষেক মাত্র ১০ রান করে উইকেট হারান। এরপর পঞ্চম ওভারে মাত্র ১০ রান করে ঈশান কিষাণ উইকেট হারান। ছয় ওভারের পর অর্থাৎ পাওয়ার প্লের পর, ভারতের স্কোর ছিল ৫৩-২। তবে, অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং সঞ্জু স্যামসন-এর মধ্যে ভাল জুটি গড়ে ওঠে। দুজনেই দ্রুত রান করতে থাকেন। তাও ঝুঁকিমুক্ত শট খেলে। এদিকে, সঞ্জু স্যামসন মাত্র ২৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেন। দশম ওভারে ভারতের স্কোর ১০০-এর কাছাকাছি নিয়ে যান।
সেই সময়ই আউট হন ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব। তবে তিলক ভর্মা সেই চাপটা একবারও পড়তে দেননি দলের উপর। এসেই বড় শট খেলতে থাকেন। পাল্টা চাপ বাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের উপর। তাঁর সঙ্গে সেট হয়ে যাওয়া সঞ্জু থাকায় ঝুঁকি নিচ্ছিলেন বাঁ হাতি ব্যাটার। তবে ১৫ বলে ২৭ রান করে আউট হন তিলক। হার্দিকের সামনে সেট হওয়ার সময় সেভাবে ছিল না। সঞ্জুই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। ওভারের মাঝে তাঁর বাউন্ডারি গুলো ভারতকে অক্সিজেন দিচ্ছিল।
শেষ পাঁচ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৫০ রান। হার্দিক ও সঞ্জু মাঠে ছিলেন। ১৬তম ওভারে দুজনেই ১৪ রান করেন। এরপর ভারতের প্রয়োজন ছিল ২৪ বলে ৩৬ রান। সঞ্জু ও হার্দিক ১৭তম ওভারে ১১ রান যোগ করেন, ফলে ভারতের প্রয়োজন ছিল ১৮ বলে ২৫ রান। ১৮তম ওভারে ভারত ৮ রান যোগ করে, ফলে ১২ বলে ১৭ রান প্রয়োজন ছিল। তবে, ১৯তম ওভারে হার্দিক পান্ডিয়া তার উইকেট হারান। এরপর ভারতের প্রয়োজন ছিল ১০ বলে ১৭ রান। তবে, ভারত তখনও সেই ওভারে ১০ রান যোগ করে। শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৭ রান, যা সঞ্জু স্যামসন মাত্র দুই বলে তাড়া করে ফেলেন।
বিরাটকে ছাপিয়ে গেলেন সঞ্জু
টি২০ বিশ্বকাপে রান তাড়া করতে নেমে বিরাট কোহলির সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৮২। সেটা পেরিয়ে গেলেন সঞ্জু। চার মেরে ৮৬ রানে পৌঁছে যেতেই রেকর্ড ভাঙেন ভারতের উইকেটকিপার ব্যাটার। শেষ অবধি ৯৬ রান করে অপরাজিত থাকেন।