
ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল জার্মানিতে। সেখান থেকে স্পেনে গিয়ে তাঁর প্রিয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ দেখেতে যাওয়ার প্ল্যানও করে ফেলেছিলেন, স্থানীয় বন্ধুদের সঙ্গে এ ব্যাপারে জানিয়েও রেখেছিলেন। টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম ম্যাচের মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই হঠাৎ বদলে গেল সবটা। ডাক এল জাতীয় দল থেকে। সূর্যকুমার যাদব আর তারপর প্রজ্ঞান ওঝা ফোন করে জানালেন মাঠে নেমে পড়তে হবে।
বিশ্বাসই করতে পারেননি সিরাজ
প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। ভেবেছিলেন কোনও প্র্যাঙ্ক হচ্ছে তাঁর সঙ্গে। আমেরিকার বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে নিজেই শেয়ার করলেন এসব কথা। সিরাজ বলেন, 'ম্যাচের দুই দিন আগে, আমি সূর্য ভাইয়ের কাছ থেকে ফোন পাই। তিনি বলেন, মিয়ান, তৈরি হও, ব্যাগ গুছিয়ে এসো।' আমি বললাম, 'সূর্য ভাই, এখন আর মজা করো না। তুমি অনেক মজা করো, কিন্তু এই বিষয়ে নয়।' তারপর তিনি বলেন, 'আমি সিরিয়াস।' তারপর ওঝা ভাইয়ের কাছ থেকে ফোন পাই, আর তখনই আমি বিশ্বাস করি।'
'বিশ্বকাপ খেলা সব ক্রিকেটারের স্বপ্ন'
ক্রিকেটের বাইরে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করা মোহাম্মদ সিরাজ গতকাল মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নামলেন বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে। শুধু খেলেনইনি, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ভারতের জয়ের ম্যাচে অন্যতম নায়কও হয়ে উঠেছেন। সিরাজ আরও বলেন, 'বিশ্বকাপে খেলা প্রতিটি খেলোয়াড়ের স্বপ্ন। ঈশ্বর যা লিখে রেখেছেন তা হবেই, তবে কঠোর পরিশ্রমও গুরুত্বপূর্ণ। সৎভাবে কাজ করলে অবশ্যই ফলাফল পাবে।'
কীভাবে ডাক পেলেন সিরাজ?
বিশ্বকাপ দলে শুরুতে না থাকার পরও সিরাজ আচমকা ডাক পেয়েছেন হর্ষিত রানা চোটে ছিটকে যাওয়ায়। বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন রানার টুর্নামেন্ট খেলতে না পারার কথা জানায় বিসিসিআই। তখন সিরাজকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে তারা। এমন আচমকা ডাক পেলে যা হয়, নিজেকে খেলার জন্য প্রস্তুত করার সুযোগ খুব একটা পাননি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর কাল আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি খেলা সিরাজ।
মিস ১৫ ফেব্রুয়ারি রিয়ালের ম্যাচ
বিশ্বকাপ দলে না থাকায় সিরাজ জানতেন ফেব্রুয়ারিতে তাঁর কোনো খেলা নেই। সে ক্ষেত্রে এ সময়ে কী করার পরিকল্পনা করেছিলেন জিজ্ঞাসা করা হলে সিরাজ বলেন, ‘১৫ তারিখে রিয়াল মাদ্রিদের একটা ম্যাচ আছে। পরিকল্পনা ছিল খেলাটা দেখতে যাব। এরপর রোজা শুরু হবে। তো আমার পরিকল্পনা সেভাবেই করা ছিল। কিন্তু ওপরওয়ালা যা লিখে রেখেছেন, সেটাই তো হয়।’