
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান আমিনুর ইসলাম বুলবুল। ২৫ বছর আগে তিনি বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেকের দিন এই কীর্তি গড়েছিলেন। এটাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনন্য এক রেকর্ড। আর সেই বুলবুলই কি না বাংলাদেশ ক্রিকেটের এত বড় ক্ষতি করে দিলেন!
আসলে আমিনুর ইসলাম বুলবুল হলেন বাংলাদেশ বোর্ডের সেই প্রেসিডেন্ট, যাঁর সময়কালে টি২০ বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলেন লিটন দাসেরা। আর বুলবুল এটা করতে বাধ্য হলেন অন্তবর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের অনড় নীতির জন্য। এই আসিফই জাতীয় 'মর্যাদার' ভাঁওতা দিয়ে বাংলাদেশকে খেলতে দিল না বিশ্বকাপ। আর এই সিদ্ধান্তে যে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিরাট বড় ক্ষতি হয়ে যাবে, সেই কথা তো বলাই বাহুল্য!
এত টাকার ক্ষতি...
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে বিরাট বড় আর্থিক ক্ষতি হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপ না খেললে ৩.৩৫ বিলিয়ন বাংলাদেশি টাকার ক্ষতি হবে আইসিসি-এর বার্ষিক রেভিনিউ থেকে। আমেরিকার ডলারে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭ মিলিয়ন। এছাড়া ব্রডকাস্ট রেভিনিউ থেকে স্পনসরশিপ এবং অন্যান্য আয়ও কমবে। যার ফলে চলতি আর্থিক বর্ষে ৬০ শতাংশের মতো ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতের বাংলাদেশ সফর বাতিল হতে পারে
ভারত এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন তলানিতে। আর এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই টি২০ বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নিল বাংলাদেশ। যার ফলে অগাস্টে ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন উঠে গেল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফর না হলে শুধুমাত্র টিভি সম্প্রচার সত্ত্ব থেকেই বিপুল পরিমাণ টাকার ক্ষতি হবে বাংলাদেশের। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সিরিজ এখন বিশ বাঁও জলে।
কেন এমনটা হল?
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এমন টক্সিক ক্রিকেটিয় সম্পর্কের পিছনে বুলবুলের পাশাপাশি আসিফ নজরুলের হাত রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আসলে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি আসন্ন বাংলাদেশ ভোটের উপর নজর রেখেই ভারতে খেলতে দিতে চাওয়া হয়নি। এর সঙ্গে নিরাপত্তার সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। বরং ভোট রাজনীতি রয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই সম্পর্কে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্র সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানায়, যখন আসিফ নজরুল কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, তখন অন্য কারও পক্ষে এর বিরুদ্ধে কথা বলা সম্ভব নয়।
সেই সূত্রের কথায়, 'আসিফ নজরুল এই বৈঠকে বেশিরভাগ কথা বলেছেন। বুলবুল ভাই খুব একটা কথা বলেননি। আর ক্রিকেটাররা শুধু শুনেছে। আসলে সিনিয়র প্লেয়াররা ভীষণ ভয় পেয়ে রয়েছে। তাঁরা ভাবছে যদি তামিম ইকবালের মতো ক্রিকেটারের সঙ্গে এমনটা হতে পারে, তাহলে তাঁদের জন্য আরও খারাপ অপেক্ষা করছে।'
আসলে বুলবুলের দায়িত্ব ছিল আসিফকে বোঝানোর। কিন্তু সেটাতে তিনি আপারগ হয়েছেন। অথবা বলা ভাল নিজের স্বার্থেই তিনি এমনটা হতে দিয়েছেন। আর তাতেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের হয়ে গেল ক্ষতি।