
একসময় 'ছোট দল' হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে চাইত না কোনও বড় ক্রিকেট টিম। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া তো কোন ছাড়, পাকিস্তান-এমনকী শ্রীলঙ্কার কাছেও টেস্ট খেলার দেশ হিসেবে পাত্তা পেত না বাংলাদেশ। ২০০০ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জগমোহন ডালমিয়া ছিলেন ICC-র প্রধান। তিনি নিজে দায়িত্ব নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে ভোট করিয়ে বাংলাদেশকে দিয়েছিলেন টেস্ট স্ট্যাটাস। এমনকি এরপর ভারতই প্রথম টেস্ট খেলেছিল ২০০০ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।
তারপর BCB-এর উপর থেকে বয়ে গিয়েছে ২৫ বছরের পদ্মার জল। আর এখন ভারতের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদে গলার শিরা ফোলাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এই ঘটনার জেরে কার ক্ষতি-কার লাভ হচ্ছে তা কি একবারও ভেবে দেখছেন BCB-র সদস্যরা?
পুরো ঘটনা কী ঘটেছে?
আসন্ন IPL-এর জন্য মিনি অকশনে বাংলাদেশি ফার্স্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমানকে টিমে নিয়েছিল KKR। কিন্তু এরপর বাংলাদেশে রাজনৈতিক কারণে পরিস্থিতি অশান্ত হতে শুরু করে। হাদির মৃত্যুর পর বাংলাদেশ যেন অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। একাধিক জায়গায় হিন্দু নিধনের খবরও আসতে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা-সহ ভারতের অন্য অংশে শুরু হয় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। এরইমধ্যে দাবি উঠতে শুরু করে বাংলাদেশি কোনও খেলোয়াড়কে IPL-এ চান্স দেওয়া চলবে না। বাদ দিতে হবে মুস্তাফিজুরকেও।
চাপে পড়ে ICC-এর নির্দেশে ফিজকে (মুস্তাফিজুর) ছেঁটে ফেলে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপরেই প্রতিবাদে সরব হয় বাংলাদেশ। BCB-এর সদস্যরা বিষয়টিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের 'অপমান' বলে আখ্যায়িত করতে শুরু করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে IPL সম্প্রচারও বাংলাদেশে ব্যান করার সিদ্ধান্ত নেয় BCB। একইসঙ্গে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না আসতে চেয়ে ICC-কে চিঠিও দিয়েছে বাংলাদেশ।
কার লাভ-কার ক্ষতি?
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এই মুহূর্তে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ধনী ক্রিকেট বোর্ড। ফলে যদি ICC বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দাবি মেনেও নেয়, তাও ভারতের খুব বেশি ক্ষতি হবে না। ভারতে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ম্যাচ ছিল ইডেনে। বাংলাদেশ গ্রুপ সি-এর তিনটি খেলা কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার কথা ছিল, তারপর মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল।
তবে এই সিদ্ধান্তে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বাংলাদেশকেই। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এহেন সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হতে পারে। কারণ বাংলাদেশ ICC-কে ভারতে আসতে না চেয়ে চিঠি দিলেও, উল্লেখযোগ্য বিষয় হল - ICC-র চেয়ারম্যান ভারতের জয় শাহ। তিনি একই সঙ্গে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছেলেও। ফলে এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কতটা লাভ পাবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এমনকী বাংলাদেশকে বাদ দিয়েও আয়োজন হতে পারে বিশ্বকাপের। সেক্ষেত্রে আখেরে ক্ষতি হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই।