Advertisement

ICC-এর চাপ, শাস্তির ভয়; ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে কীভাবে রাজি হল পাকিস্তান?

পাকিস্তানের অবস্থানকে মোটেই ভালো চোখে দেখেনি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বেছে বেছে ম্যাচ না খেলা খেলাধুলার নীতি ও প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

Pakistan cricketPakistan cricket
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 10 Feb 2026,
  • अपडेटेड 7:27 PM IST

অবশেষে অনিশ্চয়তার অবসান। প্রায় ১০ দিনের টানাপোড়েনের পর ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করল পাকিস্তান। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

এই সংকটের সূত্রপাত হয়েছিল যখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করে। পাকিস্তানের দাবি ছিল, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে না চাওয়ায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া অন্যায়।

তবে এই অবস্থানকে মোটেই ভালো চোখে দেখেনি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বেছে বেছে ম্যাচ না খেলা খেলাধুলার নীতি ও প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পাশাপাশি পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যতের উপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

আরও পড়ুন

এরপর ICC, PCB, BCB এবং অন্যান্য সদস্য বোর্ডের মধ্যে একের পর এক বৈঠক শুরু হয়। লাহোরে হওয়া বৈঠকগুলিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে ICC ও আয়োজক দেশগুলিকে বিপুল বাণিজ্যিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। সূত্রের খবর, এই ম্যাচই গোটা টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আয়ের উৎস।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায়। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (SLC) আলাদা করে PCB-কে চিঠি পাঠিয়ে স্মরণ করিয়ে দেয়, অতীতে কঠিন সময়ে পাকিস্তান তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। পাশাপাশি জানানো হয়, কলম্বোয় আয়োজিত এই ম্যাচ শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ও পর্যটনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রবিবার ICC-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খ্বাজা গদ্দাফি স্টেডিয়ামে PCB ও BCB কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর PCB প্রধান মহসিন নকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনা করেন। সব দিক বিবেচনা করে সোমবার সন্ধ্যায় পাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কট প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বহুপাক্ষিক আলোচনা ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলির অনুরোধে ক্রিকেটের চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং বৈশ্বিক ক্রীড়া ব্যবস্থার ক্ষতি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, PCB-এর ফোর্স মেজ্যোর ধারা প্রয়োগের চেষ্টাও ICC খারিজ করে দেয়, কারণ তার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি পাকিস্তান দেখাতে পারেনি।

Advertisement

সব মিলিয়ে, ICC-এর কড়া অবস্থান, বিপুল আর্থিক ক্ষতির ভয় এবং কূটনৈতিক চাপই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে ইউ-টার্ন নিতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement