
বাংলাদেশ ক্রিকেটে বিতর্ক থামছেই না। বোর্ড কর্তা বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যে, ক্রিকেট খেলাই বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তাঁরা। ভারত বিরোধিতার পথে হাঁটতে গিয়ে নিজেদের দেশেই বিপাকে ক্রিকেট কর্তারা। এর মধ্যেই বাংলাদেশের প্রথম আলো সূত্রের খবর, ক্রিকেটারদের দাবির মুখে অর্থ কমিটির প্রধানের পদসহ বিসিবির সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে বোর্ড পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে।
বিসিবির গঠণতন্ত্রে ক্রিকেটারদের জন্য আচরণবিধির কথা বলা থাকলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিচালকদের জন্য কোনো আচরণবিধি নেই, যেটি অন্য সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডে আছে। এ কারণে শৃঙ্খলার বাইরে কিছু করলেও তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।
বর্তমানে বিসিবির পরিচালক নাজমুল অর্থ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব ছাড়া আর কোনো দায়িত্বে নেই। প্রথম আলো সূত্রের খবর, জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে তাঁকে অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার। তাঁকে অন্য সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট অ্যাকাডেমি থেকে নাজমুল এবারই প্রথম বোর্ড পরিচালক হয়েছিলেন। তবে এবার অর্থ কমিটি পদ থেকে সরানো হল নাজমুলকে।
কী ঘটেছিল?
নাজমুল ইসলাম বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রিকেটারদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত আইসিসি থেকে বিসিবির রাজস্ব আয়ে কোনো হেরফের হবে না। তবে ক্ষতি হবে ক্রিকেটারদের। তাঁরা প্রাইজমানি ও ম্যাচ ফির টাকা পাবেন না। এই আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার কোনো চিন্তা বিসিবি করবে কি না, এমন প্রশ্নে নাজমুল বলেছেন, ‘ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পেছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি!’
এখানেই থেমে থাকেননি নাজমুল। আরেক প্রশ্নে নাজমুল ইসলাম এমনও মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা যে ওদের পেছনে এত খরচ করছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারছে না। আজ পর্যন্ত আমরা একটাও বৈশ্বিক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি? কোনো একটা জায়গায় আমরা কতটুকু কী করতে পারছি? আমরা তাহলে তো প্রত্যেকবারই বলতে পারি, তোমরা খেলতে পারোনি, তোমাদের পেছনে যা খরচ করেছি, এটা এবার তোমাদের কাছ থেকে আমরা নিতে থাকি, ফেরত দাও।’
এরপরেই ক্ষোভের আগু জ্বলে ওঠে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে সেটা আঁচ করতে পেরেই, এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। রাত দু'টো নাগাদ তাঁকে শো কজের নোটিশ পাঠিয়ে ক্রিকেটারদের বার্তা দিতে চেয়েছিল বোর্ড। তবে নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন নাজমুল।