
AB Devilliers Warns MS Dhoni: বয়সটা সংখ্যা মাত্র, কিন্তু ক্রিকেট মাঠের রণকৌশলে পজিশনটাই শেষ কথা। আইপিএল ২০২৬ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে চেন্নাই সুপার কিংসের ‘থালা’ মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে বড়সড় মন্তব্য করে বসলেন তাঁরই দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ তথা বন্ধু এবি ডি ভিলিয়ার্স। গত মরশুমে ধোনিকে অনেক নিচের দিকে ব্যাটিং করতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এবার কি তিনি ব্যাটিং অর্ডারে উপরে উঠে আসবেন? এই প্রশ্ন যখন কোটি কোটি ক্রিকেট প্রেমীর মনে ঘোরাফেরা করছে, ঠিক তখনই ডি ভিলিয়ার্স শোনালেন এক ভিন্ন সুর।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার মনে করেন, ধোনির বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং খেলার ধরনের নিরিখে তাঁর ৯ বা ১০ নম্বরে নামাটা দলের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। ডি ভিলিয়ার্সের মতে, ধোনি যদি অন্তত ওপরের দিকে চার বা পাঁচ নম্বর পজিশনে না নামেন, তবে তাঁর বিশাল অভিজ্ঞতা এবং মারকুটে ব্যাটিংয়ের যোগ্য ব্যবহার হবে না। মাত্র কয়েক বল খেলার জন্য ক্রিজে আসা ধোনির মতো ক্রিকেটারের ওপর কিছুটা অবিচার বলেই মনে করছেন মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি।
ডি ভিলিয়ার্স সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলার চাপ অনেক বেশি থাকে। ধোনি যদি একদম শেষ মুহূর্তে নামেন এবং সেই সময় রান রেটের চাপ আকাশছোঁয়া থাকে, তবে ক্রিজে সেট হওয়ার সময় পাওয়া যাবে না। তাঁর মতে, ধোনি এখনও বিশ্বের অন্যতম সেরা ফিনিশার হতে পারেন, কিন্তু তার জন্য তাঁকে ব্যাটিং অর্ডারে কিছুটা প্রমোশন দিতে হবে চেন্নাই ম্যানেজমেন্টকে। ধোনির উপস্থিতিই বিপক্ষ বোলারদের মনে ত্রাস তৈরি করে, তাই তাঁকে বেশি সময় উইকেটে রাখাটা কৌশলী সিদ্ধান্ত হবে।
চেন্নাই সুপার কিংসের ভক্তরা অবশ্য গত মরশুমে ধোনির সেই ঝোড়ো ইনিংসগুলো ভোলেননি। হাঁটুর চোট সামলেও তিনি যেভাবে শেষ ওভারে এসে ছক্কার বৃষ্টি ছুটিয়েছিলেন, তাতে ধোনিকে ফিনিশার হিসেবেই দেখতে অভ্যস্ত হলুদ জার্সিধারীরা। কিন্তু ডি ভিলিয়ার্সের যুক্তি অন্য। তিনি মনে করেন, ধোনি যদি মাঝের ওভারে স্পিনারদের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পান, তবে খেলাটা আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এবং শেষবেলায় বড় শট মারা তাঁর জন্য অনেক সহজ হবে।
ধোনির ব্যাটিং পজিশন নিয়ে সিএসকে শিবিরের অন্দরেও যে দীর্ঘ আলোচনা চলছে, তা বলাই বাহুল্য। অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় এবং কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং ধোনিকে কীভাবে ব্যবহার করবেন, তার ওপর নির্ভর করছে দলের সামগ্রিক ভারসাম্য। ডি ভিলিয়ার্সের এই পরামর্শ কি আদতে ধোনির ফিটনেসের ওপর কোনও সংশয় তৈরি করল? ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ধোনি নিজেই নিজের পজিশন ঠিক করতে পারদর্শী, তবে বিদেশের এক তারকার এমন প্রকাশ্য সতর্কতা আলাদা মাত্রা যোগ করল।
ধোনির মতো একজন আইকনকে নিয়ে এই ধরনের বিতর্ক বা জল্পনা নতুন কিছু নয়। যতবার আইপিএল কাছে আসে, ততবারই তাঁর অবসর বা পজিশন নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়। এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো একজন জহুরি যখন ধোনির ব্যাটিং নিয়ে সতর্ক করেন, তখন ক্রিকেট মহলে সেটাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ধোনি কি তবে বন্ধুর পরামর্শ মেনে ওপরের দিকে ব্যাট করতে আসবেন নাকি প্রথাগত ‘মাহি মার রাহা হ্যায়’ মেজাজে শেষ কয়েক বলের জন্যই তোলা থাকবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সবশেষে বলা যায়, আইপিএল মানেই ধোনির গ্যালারি ফাটানো শট আর গ্লাভস হাতে উইকেটের পিছনে বিদ্যুতগতি। ডি ভিলিয়ার্সের সতর্কবার্তা যদি ধোনির কানে পৌঁছায়, তবে হয়তো ২০২৬-এর আইপিএলে এক নতুন অবতারের ধোনিকে দেখতে পারে ক্রিকেট বিশ্ব। সিএসকে-র জয়যাত্রা বজায় রাখতে ধোনির ব্যাটে রান থাকা কতটা জরুরি, তা জানেন ডি ভিলিয়ার্সও। তাই তাঁর এই মন্তব্যকে নিছক সমালোচনা নয়, বরং বন্ধুর প্রতি ‘শুভকামনা’ হিসেবেই দেখছে ক্রিকেট প্রেমীদের একাংশ।