
তিনি যখন ক্রিজে এসেছিলেন, সেই সময় দল ধুঁকছিল। পাওয়ার প্লের মধ্যেই জেকব ডাফি ৩ উইকেট তুলে চাপে ফেলে দেন। অভিষেক শর্মা, ট্রাভিস হেড ও নীতিশ কুমার রেড্ডি ফিরে যান ডাগ আউটে। হেনরিখ ক্লাসেনকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গড়ার কাজটা চালিয়ে যেতে থাকেন ঈশান কিষাণ। তবে তাঁকে আউট করতে যে কাজটা ফিল সল্ট করলেন, তা নিয়েই শুরু হয়েছে চর্চা।
কীভাবে ধরলেন ক্যাচ?
ফুলটস বলে বড় শট খেলতে গিয়েছিলেন ছন্দে থাকা ঈশান। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট সীমানায় দুর্দান্ত ক্যাচ। সল্টের আগের ক্যাচটি নিয়ে যদি কোনো সংশয় থেকেও থাকে, তবে এবার আর তার কোনো অবকাশই নেই। অফ স্টাম্পের বাইরে নিচু ফুল-টস বল—কিষাণ এবারও সেটিকে পয়েন্টের ওপর দিয়ে হাঁকাতে গিয়েছিলেন। বলটি নিশ্চিতভাবেই সীমানার বাইরে যাচ্ছিল; কিন্তু সল্ট ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট অঞ্চলের দিকে ডানদিকে তীব্র গতিতে ছুটে, মাটির প্রায় সমান্তরালে ডান হাতটি বাড়িয়ে দিয়ে বলটি লুফে নেন। তাও এক হাতে। অবিশ্বাস্য!
দারুণ ইনিংস ঈশানের
স্পিনার হোক না পেসার কাউকেই রেয়াত করেননি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ক্যাপ্টেন। দলে প্যাট কামিন্স না থাকলেও, বিশ্বকাপ জেতা ক্রিকেটার ভালভাবেই জানেন কীভাবে দলের উপর থেকে চাপ কমাতে হয়। মাত্র ২৭ বলে করে ফেলেন হাফ সেঞ্চুরি। মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে বল উড়ে গিয়েছে তাঁর ব্যাটে লেগে। শর্ট বল খেলতে গিয়ে ৩ উইকেট হারাতে হলেও, তিন ব্যাটারকেই যেন ঈশান শিখিয়ে দিলেন কীভাবে শর্ট বল খেলতে হয়। ফলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের সেই রণকৌশল কাজে আসেনি। উল্টে চার-ছক্কা মেরে নিজের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নিয়েছেন ঈশান।
ক্লাসেনের সঙ্গে জুটি
মাত্র ৫৩ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েন ঈশান ও ক্লাসেন। সেই ইনিংসই ভিত গড়ে দেয়। পাওয়ার প্লে খারাপ হলেও, ঘুরে দাঁড়ায় হায়দরাবাদ। ৩৮ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলে তিনি যখন ফেরেন তখন দলের রান ১৫৫। ফিল সল্ট এই অবিশ্বাস্য ক্যাচ না ধরলে আরসিবি-র বিপদ আরও বাড়তে পারত। আটটা চার আর পাভটা ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস।