Advertisement

BCCI IPL Assembly Election: ভোটের দিন ঘোষণায় IPL-এর সূচি নিয়ে মহাবিপাকে বিসিসিআই, বদলাতে পারে সূচি?

BCCI IPL Assembly Election: বিসিসিআই সূত্রে খবর, জয় শাহের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ইতিমধ্যেই বিকল্প পরিকল্পনার পথে হাঁটতে শুরু করেছে। অতীতেও লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের কারণে আইপিএল আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে বিদেশে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।

IPLIPL
Aajtak Bangla
  • মুম্বই,
  • 15 Mar 2026,
  • अपडेटेड 10:43 PM IST

BCCI IPL Assembly Election: গণতন্ত্রের উৎসব বনাম ক্রিকেটীয় উন্মাদনাএই দুইয়ের দ্বন্দ্বে এখন সরগরম উত্তর-পূর্ব ভারত। রবিবার অসম বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই আইপিএল ২০২৬-এর ক্রীড়াসূচি নিয়ে প্রবল অনিশ্চয়তা দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে যে ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ছিল, তা নিয়ে এখন মাথায় হাত বিসিসিআই কর্তাদের। ভোটের দিন এবং তার আগে-পরে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি বজায় রাখতে গিয়ে ক্রিকেটারদের সুরক্ষা এবং গ্যালারির ভিড় সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী মাসে অসমে যখন ভোট উৎসব চলবে, ঠিক সেই সময়েই আইপিএলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। যার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম রাজস্থান রয়্যালস। কিন্তু নির্বাচনের কারণে পুলিশ ও প্রশাসনিক স্তরে যে বিপুল কর্মতৎপরতা প্রয়োজন, তার মাঝে আইপিএলের মতো হাই-ভোল্টেজ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা কার্যত অসম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসনের একাংশ।

বিসিসিআই সূত্রে খবর, জয় শাহের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ইতিমধ্যেই বিকল্প পরিকল্পনার পথে হাঁটতে শুরু করেছে। অতীতেও লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের কারণে আইপিএল আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে বিদেশে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বোর্ড চাইছে ভারতের মাটিতেই খেলাগুলো রাখতে, প্রয়োজনে গুয়াহাটির ম্যাচগুলো জয়পুর বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে স্থানান্তরিত করা হতে পারে। তবে তা নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

অসম ক্রিকেট সংস্থার (ACA) কর্মকর্তারাও এখন দোলাচলে। একদিকে রাজ্যের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ঘরের মাঠে আইপিএল দেখা বড় স্বপ্ন, অন্যদিকে নির্বাচনের সুরক্ষা বিধিতে কোনো ফাঁক রাখা যাবে না। গুয়াহাটিতে ম্যাচের দিন যদি ভোট পড়ে, তবে নিরাপত্তারক্ষীদের মোতায়েন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। ফলে বিসিসিআই-কে হয়তো অসমের ম্যাচগুলোর তারিখ পরিবর্তন করতে হবে অথবা ভেন্যু বদলাতেই হবে।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সূচি বদল করা মানেই ব্রডকাস্টার থেকে শুরু করে স্পনসর— সবার সঙ্গেই নতুন করে চুক্তি বা সমন্বয় সাধন করতে হয়। আইপিএলের মতো ঠাসা সূচিতে একটা ম্যাচ এদিক-ওদিক হওয়া মানেই তা তাসের ঘরের মতো বাকি ম্যাচগুলোতেও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে কেকেআর বা রাজস্থানের মতো দলগুলোর কাছে হোম এবং অ্যাওয়ে গ্রাউন্ডের একটা বিশেষ সুবিধা থাকে, যা ভেন্যু বদলালে নষ্ট হতে পারে।

Advertisement

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের দিনগুলোতে জমায়েতের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে হাজার হাজার দর্শক নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে খুব দ্রুত সংশোধিত সূচি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। গুয়াহাটির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বা কেরলের ভোটের তারিখের দিকেও নজর রাখছে বোর্ড।

ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের মধ্যেও উদ্বেগের ছায়া। শেষ মুহূর্তে ভেন্যু বা সূচি বদল হলে দলগুলোর ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং হোটেল বুকিংয়েও বড় সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি সমর্থকদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। বহু ক্রিকেটপ্রেমী যারা আগেভাগেই গুয়াহাটির টিকিট বা যাতায়াতের পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের এখন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিসিসিআই অবশ্য বিষয়টি নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি।

পরিশেষে, অসমের বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ এখন আইপিএলের গতিরোধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর কাছে আইপিএল গৌণ হলেও, এর বাণিজ্যিক ও আবেগীয় মূল্য অপরিসীম। জয় শাহ ও তাঁর টিম কীভাবে ভোটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রিকেটের এই মেগা টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করে, সেটাই এখন দেখার। সম্ভবত আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অসমের ম্যাচগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে বোর্ড।
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement