
ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আঁচ এসে পড়ল ২২ গজে। সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে। বল নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাদের। আসলে ডিউক বলে ইংল্যান্ডে খেলা হয়। ‘দ্য ডেইলি মেইল’-এর মতে, কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের আগে এই যুদ্ধ ডিউকস ক্রিকেট বলের সরবরাহ ব্যাহত করতে চলেছে।
এই বলের চামড়া ইংল্যান্ডে প্রক্রিয়াজাত করা হলেও, সেলাইয়ের কাজের জন্য আনতে হয় ভারতীয় উপমহাদেশে। এরপর তৈরি বলগুলো সাধারণত পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথে হয়ে ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে সময় লাগায় গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কারখানাগুলিতে কাঁচামাল দেওয়ার জন্য মজুদ থাকা সত্ত্বেও পণ্যবাহী যানগুলি আটকে রয়েছে। বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে অথবা মাল পরিবহনের খরচ ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে বল পরিবহনের খরচ তিনগুণ বেড়ে গিয়েছে।
ব্রিটিশ ক্রিকেট বলস লিমিটেডের মালিক দিলীপ জাজোদিয়া এই পরিস্থিতিকে একটি 'বড় সংকট' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি যা পরিস্থিতি তাতে সতর্ক করেছেন যে কাউন্টি দলগুলো সাধারনভাবে যে ক'টা বল দিয়ে অনুশীলন করে, তার অর্ধেক বল দিয়ে হয়তো মরসুম শুরু করতে হতে পারে।
এটা কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের জন্যও একটা বড় চ্যালেঞ্জ, যেখানে ১৮টি দল একই সঙ্গে খেলে। শুধু তাই নয়, এই টুর্নামেন্টে ঘন ঘন বল পরিবর্তন একটা সাধারণ ঘটনা। যদিও ভারতীয় উপমহাদেশে এই বল পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তবে তা ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকল্প পথের সন্ধান করা হচ্ছে, কিন্তু কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়া যায়নি। তবে টুর্নামেন্ট যত এগিয়ে আসছে, ততই চাপ বাড়ছে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি এমন যে প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও কোকাবুরা বলেই হতে পারে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট।
এর আগে, দুবাই বিমানবন্দরে আটকা পড়ার পর ভারতীয় শাটলার পিভি সিন্ধু অল ইংল্যান্ড সুপার ১০০০ টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর বোমা হামলার পর পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাকে তিন দিন ধরে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল।