
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল ২০২৬-এর আসর বসার আগেই বড়সড় ঝটকা খেল দিল্লি ক্যাপিটালস শিবির। হঠাতই দলের মেন্টর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন মহাতারকা কেভিন পিটারসন। টুর্নামেন্ট শুরুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে তাঁর এই আচমকা সরে দাঁড়ানোয় দিল্লির অন্দরে যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। পিটারসনের মতো একজন ক্রিকেটীয় মস্তিস্কের বিদায় যে ঋষভ পন্থদের সাজঘরের পরিকল্পনাকে ওলটপালট করে দিল, তা নিয়ে দ্বিমত নেই ক্রিকেট মহলের।
শনিবার সকালে দিল্লির ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন এই ব্রিটিশ কিংবদন্তি। যদিও তাঁর এই সিদ্ধান্ত কেন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে ক্যাপিটালস ম্যানেজমেন্ট। পিটারসন নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ায় কেবল ধন্যবাদ জানিয়েই নিজের বক্তব্য শেষ করেছেন। তবে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, পিটারসনের এই প্রস্থানের নেপথ্যে হয়তো কোনো পারিবারিক কারণ বা আন্তর্জাতিক স্তরে অন্য কোনো বড় দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।
গত মরশুমে মেন্টর হিসেবে দিল্লির ডাগ-আউটে পিটারসনের উপস্থিতি দলের তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছিল। বিশেষ করে অভিষেক শর্মা বা যশ ধুলদের মতো তরুণদের টেকনিকাল খুঁটিনাটি শোধরাতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। পন্থের অধিনায়কত্বের ধরনেও তাঁর কোচিং দর্শনের ছাপ স্পষ্ট ছিল। কিন্তু নতুন মরশুমের রণকৌশল যখন চূড়ান্ত হওয়ার মুখে, ঠিক তখনই তাঁর এই বিদায় দিল্লির ট্রফি জয়ের স্বপ্নে বড়সড় ধাক্কা দিল।
সূত্রের খবর, পিটারসনের এই সিদ্ধান্তে বেশ অবাক হয়েছেন কোচিং স্টাফের অন্য সদস্যরাও। হেড কোচ রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে তাঁর রসায়ন নিয়ে আগে কোনো অভিযোগ না থাকলেও, তলে তলে কোনো মতানৈক্য তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। দিল্লির ক্রিকেট প্রেমীদের কাছেও খবরটি অত্যন্ত হতাশাজনক। কারণ, পিটারসন মানেই ছিল এক আগ্রাসী মানসিকতা, যা দিল্লিকে গতবার প্লে-অফের লড়াইয়ে অনেকটা পথ এগিয়ে দিয়েছিল।
দিল্লি ক্যাপিটালসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কেভিনের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানায় ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে হাতে সময় খুব কম থাকায়, পিটারসনের বিকল্প হিসেবে কাকে আনা হবে, তা নিয়ে দ্রুত ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে ম্যানেজমেন্ট। সম্ভাব্য তালিকার দৌড়ে নাকি ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ভারতীয় ও বিদেশি তারকার নাম উঠে আসছে।
পিটারসনের সরে দাঁড়ানোর ফলে অধিনায়ক ঋষভ পন্থের ওপর চাপ আরও বাড়বে। নিলামের পর যে দল সাজানো হয়েছে, তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার জন্য পিটারসনের টিপস অত্যন্ত কার্যকর হতো। এখন নতুন কোনো মেন্টর এলে তাঁকে আবার শূন্য থেকে পরিকল্পনা শুরু করতে হবে, যা টুর্নামেন্টের মাঝে সমস্যার কারণ হতে পারে। ক্যাপিটালস ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন টিম ম্যানেজমেন্টের পরবর্তী চমকের দিকে।
আইপিএলের গ্ল্যামার আর উত্তেজনার মাঝে পিটারসনের মতো ‘কালারফুল’ ব্যক্তিত্বের অভাব অনুভূত হবে ধারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে দর্শকদের মধ্যেও। তিনি কেবল একজন মেন্টর ছিলেন না, ছিলেন আইপিএলের একজন বড় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরও। তাঁর প্রস্থান কেবল দিল্লির ক্ষতি নয়, বরং টুর্নামেন্টের জৌলুসেও কিছুটা ভাটা ফেলবে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে আইপিএল মানেই যেখানে অনিশ্চয়তা, সেখানে দিল্লির জন্য এই মেঘ দ্রুত কেটে যায় কি না, সেটাই দেখার।