
আধুনিক ক্রিকেটে ওয়ান ডে ফরম্যাট সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে দাবি করলেন ললিত মোদী। একইসঙ্গে আরও একধাপ এগিয়ে তাঁর আহ্বান ক্রিকেটের এই ফরম্যাটকে পুরোপুরি বাতিল করা হোক। IPL-এর প্রাক্তন প্রতিষ্ঠাতা মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য এবং টি-টোয়েন্টির বিস্ফোরক আবেদনকে কেন্দ্র করেই ক্রিকেটের ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। ললিত মোদীর এই বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পরেই ODI ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক উস্কে উঠেছে।
এমন একটা সময়ে ললিত মোদী এই মন্তব্য করেছেন, যখন ২০২৭-এর বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্ব প্রায় শুরু হতে চলেছে। তবে ODI ক্রিকেট নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন কিন্তু ক্রমেই বাড়ছে। স্পোর্টস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ললিত মোদী জানিয়েছেন, টেস্ট ফরম্যাট অপরিবর্তিত রাখা গেলেও, ODI আর এই খেলার ভবিষ্যতের সঙ্গে খাপ খায় না।
ললিত মোদী বলেন, "টেস্ট ক্রিকেট সবসময় থাকা উচিত। আমাদের ODI বাদ দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকেই রাখা উচিত। কেরি প্যাকার একদিনের ক্রিকেটকে বাঁচানোর জন্য দারুণ কাজ করেছেন। আমি তাঁকে স্যালুট জানাই। কিন্তু ODI ক্রিকেটের সময় শেষ। টেস্ট ক্রিকেটের অবশ্য়ই উচিত দিন-রাত্রি ফরম্যাটে নিয়ে যাওয়া।"
ODI ক্রিকেট কি সত্যিই শেষের পথে?
ODI ক্রিকেট নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু মোটেই নতুন নয়। এর আগে ভারতের তারকা স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন দর্শকদের পরিবর্তিত আচরণ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের উত্থানের দিকে ইঙ্গিত করে ODI ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ভারতীয় স্পিনারের প্রশ্ন ছিল, ২০২৭ ODI বিশ্বকাপের পরে আদৌ ODI ক্রিকেট থাকবে তো?
পরিসংখ্যানে উঠে আসছে এইসব তথ্য
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারত মাত্র পাঁচ মাসে ২২টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। আর ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপের পুরো প্রস্তুতি পর্বে টিম ইন্ডিয়া মাত্র ১৮টি ODI খেলবে বলে জানা গিয়েছে। যা থেকে স্পষ্ট, এই ফরম্যাটটির পরিসর দিনে দিনে ছোট হয়ে আসছে।
তবে এতে কোনও সন্দেহ নেই, যে একটা সময় এই ODI ক্রিকেটই ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের হার্টবিট। তবে আজ, টেস্ট ও T-20 ক্রিকেটের মাঝে পিষছে ওডিআই। এবার কি তবে বন্ধ হয়ে যাবে এই ফরম্যাট? উত্তর মিলতে পারে আগামী ২-৩ বছরের মধ্যেই।